হাটহাজারীতে মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে যুবককে গুলি

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মুহাম্মদ আরাফাত (২৬) নামের এক যুবককে মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে তিন অস্ত্রধারীর বিরুদ্ধে।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের মদুনাঘাট হ্যাচারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ আরাফাতকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসা শেষে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মদুনাঘাট বাজারের পর ওয়াপদা কলোনি এলাকার ব্রিজের গোড়া থেকে মোটরসাইকেলে থাকা তিন অস্ত্রধারী আরাফাতকে ধাওয়া করেন। পরে মদুনাঘাট হ্যাচারি এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা। এ সময় গুলিতে আরাফাতের মুখে আঘাত লাগে। পরে রুবেল নামের এক ব্যক্তি স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
গুলিবিদ্ধ আরাফাত হাটহাজারী উপজেলার বুড়িশ্চর ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ টেন্ডলের বাড়ির বাসিন্দা।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আরাফাত এলাকায় ‘ডন আরাফাত’ নামে পরিচিত। তাদের দাবি, তিনি স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন। পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তবে হামলায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর মদুনাঘাট ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের মোটরসাইকেলে চলাচল এবং গুলি করার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জনবহুল এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলেও অস্ত্রধারীরা কীভাবে নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, তিনি ঢাকায় রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মদুনাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইব্রাহিম আহমেদের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আরাফাত নামের একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার মুখে গুলি লেগেছিল। চিকিৎসা শেষে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় অস্ত্রধারীদের চলাচল ও প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



