ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের বদলে ইতালিকে রাখার প্রস্তাব মার্কিন দূতের

অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলকে বাদ দিয়ে সেখানে ইতালিকে স্থলাভিষিক্ত করার জন্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে এক অভিনব প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি। 

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাম্পোলি ইতিমধ্যে এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। 

জাম্পোলি সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, একজন ইতালীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে আজুরিদের দেখা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। তিনি যুক্তি দেখান, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো সব ধরনের যোগ্যতা ও ঐতিহ্য ইতালির রয়েছে।

অন্যদিকে ইরান সরকার ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরে অংশ নিতে তাদের জাতীয় ফুটবল দল পুরোপুরি প্রস্তুত। গত সপ্তাহে ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনোও এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, ইরান যথাসময়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে বলে তারা আশা করছেন। 

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই ফুটবল মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মন্তব্যে বলেছিলেন যে, ইরানি দলকে টুর্নামেন্টে স্বাগত জানানো হলেও তাদের ‘জীবন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে তিনি কিছুটা শঙ্কিত। যদিও ট্রাম্প তার এই আশঙ্কার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা ব্যাখ্যা দেননি।

২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড এবং মিশরের বিপক্ষে ইরানের তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেল এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরান ফুটবল ফেডারেশন নিরাপত্তার খাতিরে এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাদের এই ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইরানের সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। ফিফার মতে, নির্ধারিত ভেন্যুতেই খেলা আয়োজন করা হবে এবং অংশগ্রহণকারী সব দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আয়োজক দেশগুলোর ওপর ন্যস্ত।

পাওলো জাম্পোলির এই প্রস্তাব নিয়ে ফুটবল বিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্রীড়া বিশ্লেষক মনে করছেন যে, রাজনৈতিক কারণে কোনো যোগ্য দলকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো দলকে সুযোগ দেওয়া ফিফার নিরপেক্ষতা ও ‘ফেয়ার প্লে’ নীতির পরিপন্থী। তবে জাম্পোলি মনে করেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং ইতালির মতো বড় দলের অনুপস্থিতিতে এই ধরনের পরিবর্তন টুর্নামেন্টের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। 

ইরান ফুটবল দল বর্তমানে তাদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা আশাবাদী যে মাঠের খেলায় কোনো রাজনৈতিক বাধার সৃষ্টি হবে না। এখন দেখার বিষয় হলো, মার্কিন দূতের এই ব্যক্তিগত প্রস্তাবের ওপর ফিফা কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয় কি না।

সূত্র: আলজাজিরা

Related Articles

Back to top button