বিপ্লবের গ্রাফিতি মুছে কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম দাবি করেন, ছাত্রদল জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে না বলেই বিপ্লবের স্মৃতি সম্বলিত গ্রাফিতি মুছে ফেলে সেখানে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করছে।

সংবাদ সম্মেলনে নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির স্মরণে অঙ্কিত দেয়ালচিত্র ও জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতিগুলো ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে মুছে দিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কলেজ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে ছাত্রদলের সশস্ত্র কর্মীরা শিবিরের দায়িত্বশীলদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এমনকি পরিস্থিতি শান্ত করতে আসা শিক্ষকদের ওপরও তারা চড়াও হয় এবং তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরবর্তীতে শিবিরের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে পেছন থেকে হামলা করা হয়, যার ফলে এক কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রমসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

শিবির সভাপতি বলেন, ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাস হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের, কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের মিছিলে যেতে আগ্রহী নয় এবং তারা ক্যাম্পাসে পুনরায় ‘গণরুম-গেস্টরুম’ সংস্কৃতি চালু করতে পারছে না বলেই হতাশ হয়ে পুরনো সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। নূরুল ইসলামের দাবি, বর্তমান সরকারের শাসনামলে গত দুই মাসে ৩১ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের পুনর্বাসিত করে ছাত্রদল এখন অপকর্ম চালাচ্ছে।

সরকারের সমালোচনা করে শিবির সভাপতি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও বেকারত্বসহ জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো আড়াল করতেই সুপরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসগুলোকে উত্তপ্ত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হতে দেওয়া হচ্ছে, যা পুরোনো কর্তৃত্ববাদী কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষণ। জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যেন জনগণের রক্তের সাথে তামাশা করে ‘জুলাইয়ের গাদ্দারে’ পরিণত না হয়, সে বিষয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে নূরুল ইসলাম অবিলম্বে সিটি কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণরায় অমান্য করে যদি ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়, তবে ছাত্রদলকে ভয়াবহ গণবিস্ফোরণের মুখোমুখি হতে হবে এবং তাদের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের চেয়েও করুণ হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Back to top button