বরিশালে বেড়েছে লোডশেডিং, তীব্র গরমেে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

অনলাইন ডেস্ক: তীব্র গরমের মধ্যে বরিশাল নগরীতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে শহরজুড়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
নগরের অধিকাংশ এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, তাঁর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৭৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিটি ফিডারে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে কেন্দ্র-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তাঁদের এলাকায় দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৯ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২১ মেগাওয়াট। মূল গ্রিডে ঘাটতির কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিশেষ করে রাতের বেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি থাকায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। কাশিপুর চৌহুতপুর এলাকার বাসিন্দা হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এমন অবস্থা হয়েছে যে মনে হয় বিদ্যুৎ বিলই হয়তো দিতে হবে না।’
নিউ সার্কুলার রোডের বাসিন্দা মাসুদ আহমেদ জানান, গরমের সঙ্গে মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং বয়স্করা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। নগরের বাণিজ্যিক এলাকা গির্জামহল্লার ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান খোলার সময় কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটে ক্রেতা কমে গেছে। চশমা ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে আমাদের ব্যবসায় মন্দা চলছে।’
রূপাতলী গ্রিড স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক। তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার নগরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




