নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ)

তরুণ, সংখ্যালঘু ও নারী ভোটাররা পাল্টে দেবে সমীকরণ
অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা (দাঁড়িপাল্লা) ব্যস্ত সময় পার করছেন। চায়ের দোকান, হাট-বাজারসহ সব স্থানে ঘুরেফিরে আসছে ভোট প্রসঙ্গ। এলাকার উন্নয়ন ও নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন তারা। মাইকিং স্লোগান, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও পথসভায় গতকাল ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত পর্যন্ত সরব ছিলেন প্রার্থীরা। রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগ, তরুণ, সংখ্যালঘু ও নারী ভোটাররাই পালটে দেবেন নির্বাচনি সমীকরণ।
এদিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পূর্বাচল উপশহরের ১০ নম্বর সেক্টরের হাড়ারবাড়ি এলাকায় আয়োজিত সংবাদসম্মেলন করে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে সমর্থন জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল হোসেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি গোলাকান্দাইল বিএনপির নির্বাচনি অফিসে আয়োজিত সংবাদসম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত শিল্পপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান গত ৬ ফেব্রুয়ারি লক্ষাধিক ভোটের এলাকা তারাবো পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে দলীয় কোন্দল নিরসন করেছেন। এর পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একাট্টা হয়ে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ হাশেমী (হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান চন্দন (কাস্তে), ইনসানিয়াত বাংলাদেশের রেহান আফজাল (আপেল) ধীরগতিতে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করেন।
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী গ্রাম থেকে গ্রামে ও একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গণসংযোগ করে ছুটে বেড়াচ্ছেন। বিএনপি ১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালে চার দলীয় জোটের প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী জয়লাভ করেন। বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু এবারই দলের প্রথম মনোনয়ন পেয়েছেন। তার চাচা সুলতানউদ্দীন ভুঁইয়া নয় বছর সংসদ সদস্য ছিলেন।
আওয়ামী লীগের সময় হামলা ও বহু মামলার আসামি দিপু ভূঁইয়া ভোটারদের কাছে পরীক্ষিত নেতা। তাকে বিজয়ী করতে দলের নেতাকর্মীরা একাট্টা হয়ে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় জোট বেঁধে গণসংযোগ করছেন। দেশ স্বাধীনের পর জামায়াতে ইসলামী এ আসনে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে না পারলেও এবারের অবস্থা ভিন্ন।
জামায়াতে ইসলাম আসনটি দখলে নিতে দিন- রাত নীরবে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। তারা দিন-রাত প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ ও সমাবেশ করছেন। মসজিদে মসজিদে নামাজ পড়ে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করছেন। জামায়াতের নারীকর্মীরা নারী ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। নারী ভোটার জামায়াতের বাড়তি সুবিধার আশায় কাজ করছেন।
সংখ্যালঘু, আওয়ামী লীগ, নতুন ও নারী ভোটারদের ফলাফল পালটে যাওয়ার আশঙ্কাও কম নয়। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ও আওয়ামী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রূপগঞ্জ আসনে দুইটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে ২ লাখ ৭ হাজার ৮৪৯ জন পুরুষ ও ২ লাখ ৯৭৭ জন নারী ও তিন জন হিজড়া ভোটারসহ মোট ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন ভোটার রয়েছে। ১২৯টি ভোটকেন্দ্রে ৭৬৩ ভোটকক্ষ রয়েছে।




