গাইবান্ধা-৪ আসনের ৫টি কেন্দ্রে ভোট বাতিলের দাবি জামায়াত প্রার্থীর

অনলাইন ডেস্ক: গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারা, পাঁচটি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত ও পুনরায় ভোট গ্রহণ করে পুনঃফলাফল ঘোষণার দাবি করেছেন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার।
গতকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয় দারুল আমান ট্রাস্ট মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. আব্দুর রহিম সরকার লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনের দিন গাইবান্ধা-৪ আসনে পাঁচটি কেন্দ্রে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী প্রিজাইডিং অফিসারকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপির লোকজন কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ওই দিন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালপুর ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিরাভাঙ্গা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, কুমিরাভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোচাশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শিংহজানি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ঢুকে এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেন। পরে তারা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ভরার মতো অনিয়ম করেন।
এছাড়া একটি কেন্দ্রে ১ হাজার ৮০০ ভোটের স্থলে ২ হাজার ৮০০ ভোট দেখানো হয়েছে। সেখানে তার পোলিং এজেন্ট স্বাক্ষর করেননি। আরও অনেক কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১২০টি ব্যালট দিয়ে বাঁধা বান্ডিলকে ১০০টির বান্ডিল হিসেবে দেখানো হয়েছে। আবার ধানের শীষের ৮০টি ব্যালট দিয়ে বাঁধা বান্ডিলকে ১০০টির বান্ডিল হিসেবে দেখানো হয়েছে। অনেক জায়গায় ধানের শীষের বান্ডিলে দাঁড়িপাল্লার ব্যালট প্রবেশ করিয়ে গণনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দখল হওয়া কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ হয়নি। এসব কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় ভোট গ্রহণ ও সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের আব্দুল করিম সরকার, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জহুরুল হক সরকার, জেলা শিবিরের সভাপতি রুম্মান ফেরদৌস ও সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ কার্যাভী।




