উখিয়ায় ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানকালে ৬২২ রোহিঙ্গা আটক

অনলাইন ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবৈধ বসবাস ও চলাচল বন্ধে ব্যাপক আকারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৬২২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে বাসাভাড়া দিয়ে আশ্রয় দেওয়ার দায়ে তিন জন বাড়ির মালিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
রোববার (৮ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের আবাসিক এলাকা, ভাড়া দেওয়া ঘর, কলোনি, দোকানপাটের আশপাশ ও সন্দেহভাজন স্থানে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আটক রোহিঙ্গারা শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। অনেকেই স্থানীয় বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে ঘর বা কক্ষ নিয়ে বসবাস করছিলেন। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে কোনো বৈধ পরিচয়পত্র, ক্যাম্প ত্যাগের অনুমতি বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। আটক রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নিজ নিজ শরণার্থী ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
অভিযান চলাকালে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তিনজন বাড়ির মালিককে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া অভিযানের সময় আরও কয়েক জনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়, যার মোট পরিমাণ ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে অবাধ চলাচল ও বসবাস স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে মাদক পাচার, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বও সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নুর আহমদ সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত রোহিঙ্গাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে স্ব-স্ব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




