টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু, ক্রিকেট প্রেমীদের পরিকল্পনা বাতিল

অলাইন ডেস্ক: ফেব্রুয়ারি মাসকে ঘিরে আলাদা পরিকল্পনা ছিল জিয়াউল হক তানিনের। ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটার ও বর্তমানে ক্রীড়া সামগ্রীর ব্যবসায়ী তানিন ব্যবসায়িক কাজের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে দেখা এবং টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বাংলাদেশের ম্যাচের জন্য সংগ্রহ করেছিলেন প্রিমিয়াম টিকিটও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ভারত সফরে জাতীয় দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসির কাছে অনুরোধ করেছিল- ভারতে নির্ধারিত বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য কোনো ভেন্যুতে, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে বাংলাদেশ। এর ফল হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে দলটি এবং তাদের জায়গায় সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড।

এ সিদ্ধান্ত দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাকে ঘিরে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমর্থকদের একাংশ সরকারের অবস্থানকে সমর্থন জানালেও অন্য অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

জানুয়ারির শুরুতে পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল অধ্যায় হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক আরও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভারতীয় ক্রিকেটে চরমপন্থী চাপের প্রভাব এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। ঢাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী ক্ষোভ আরও তীব্র হয়, যার পেছনে রয়েছে বাণিজ্যিক বিরোধ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেট হয়ে ওঠে নিরাপত্তা ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন আলোচনা ও ক্রিকেটপল্লী মিরপুরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিষয়টি কেবল খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়; এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সমর্থকদের বিষয়টিও জড়িত। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা দেশে বড় প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারত।

তবে অনেকে মনে করছেন, বিকল্প ভেন্যু নিয়ে আরও জোরালো আলোচনা করা যেত। তাদের মতে, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অতীতেও বিভিন্ন দলের জন্য আলাদা ভেন্যুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা প্রকাশ্যে কথা বলতে না চাইলেও ভেতরে হতাশা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের পর বিশ্বকাপে খেলার বিষয়ে দলটির মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ হাতছাড়া হলো বলে মনে করছেন অনেকে।

এই সময়টিতে খেলোয়াড়দের ব্যস্ত রাখতে বিসিবি তিন দলের একটি ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এর তুলনা চলে না বলে মত ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে সমর্থকদের মধ্যেও। অনেকের মতো তানিনেরও টিকিট ও ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। বিশ্বকাপের উন্মাদনা থাকলেও বাংলাদেশের অনুপস্থিতি এবারের আসরে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে।

একসময় যে ক্রিকেট ছিল দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় ঐক্যের জায়গা, সেটিই এখন রাজনীতি ও কূটনীতির আলোচনায় কেন্দ্রে। এতে দেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হলো, কিংবা ক্রিকেট কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হলো- সে প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতেই মিলবে।

Related Articles

Back to top button