বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করে ফ্যাসিবাদী কাঠামোতে ফিরছে: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক: ফ্যাসিবাদকে একটি সংক্রামক ব্যাধির সঙ্গে তুলনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা শাসকের পতনেই ফ্যাসিবাদ শেষ হয়ে যায় না। বরং জনগণের রায়কে অবলিলায় অগ্রাহ্য ও অস্বীকার করার মাধ্যমেই নতুন করে ফ্যাসিবাদের সূচনা হয়। ফ্যাসিবাদ একটি রোগ। নির্দিষ্ট কোনো রোগী মারা গেলেই ফ্যাসিবাদ মারা গেছে—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। এটি এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয় এবং বর্তমানে আমরা সেই সংক্রমণের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যারা অতীতে জুলুমের শিকার ছিলেন এবং যারা বর্তমানে সরকারে আছেন, তারা সবাই একসময় মজলুম ছিলেন। তাই আবারও জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করে ফ্যাসিবাদী কাঠামোতে ফিরতে চাইছে। গণঅভ্যুত্থান করা যুবসমাজ এখনো জীবিত। অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। আমাদের আন্দোলন হবে নিয়মতান্ত্রিক ও ইস্পাত কঠিন। তবে আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা বা ভায়োলেন্স করতে এলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা জেলা জামায়াতের এক গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমতের প্রতিফলন নিয়ে তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরিসংখ্যান টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার বলছে তারা ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছে, কিন্তু একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছে। আপনারা ৫১ ভাগের দোহাই দিয়ে ৬৮ শতাংশ মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করছেন। এর নাম কি গণতন্ত্র? বিএনপির সংবিধান সংক্রান্ত বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলটির প্রতিষ্ঠাতা যখন গণভোট করেছিলেন, তখন সংবিধানে এর প্রভিশন ছিল কি না।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির সাফ জানিয়ে দেন, তার দল কোনো ‘কাটাছেঁড়া সংবিধান’ চায় না। জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী চূড়ান্ত সংবিধান প্রণয়নের দাবিতে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি দেশের জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট নিয়ে সরকারের লুকোচুরির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংসদে বলা হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে, অথচ পেট্রোল পাম্পে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার লাইন। পাম্পে তেল নেই, কিন্তু চড়া দামে অন্যত্র বিক্রি হচ্ছে। সরকার বাস্তব চিত্র আড়াল করে জনগণের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। ১১ দল এবং জামায়াতে ইসলামীর এই লড়াই জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সমাবেশে সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, পুরোনো ও ছেঁড়া জামা কেটে জোড়া লাগিয়ে পরানোর মতো ‘সংশোধন’ নয়, বরং মৌলিক ত্রুটিগুলো দূর করে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। একটা হচ্ছে পুরোনো জামা ছিঁড়ে গেছে, ওটা কেটে জোড়া দিয়ে পরানো। আরেকটা হচ্ছে গায়ের জামার ছেঁড়া অংশগুলো ফেলে দিয়ে নতুন জামা পরানো। আমরা ঐ কাটাছেঁড়া জামা আর জাতির গায়ে পরাতে চাই না। এই সংবিধান শুক্রবার-শুক্রবার সংশোধন হয়েছে। এত সংশোধনের পথে ফ্যাসিবাদ এলো কীভাবে? সংবিধানের যেসব ধারার কারণে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে, সেগুলো নির্বাসনে পাঠিয়ে সংস্কার করতে হবে।

Related Articles

Back to top button