নির্বাচনী সফরে আজ ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে শহরের সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি ভাষণ দেবেন। 

তারেক রহমানের এই আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে। দলীয় সূত্রমতে, ২০০৩ সালের ৮ ডিসেম্বরের পর আজই প্রথম তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে পা রাখছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তার এই সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি স্থানীয়ভাবে সর্বাত্মক শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং শুক্রবার সকাল থেকেই সভাস্থলে মঞ্চ তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

সফরের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে বিমানে চড়ে নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে বেলা ১১টায় হেলিকপ্টারে করে তার ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। 

জনসভা শেষ করে দুপুর ১টার দিকে তিনি পুনরায় নীলফামারীর উদ্দেশে রওনা দেবেন। এই জনসভায় ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি নির্বাচনী আসন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের একটি আসনের দলীয় প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় নেতৃবৃন্দ নিশ্চিত করেছেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন প্রস্তুতির বিষয়ে জানান যে, দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রিয় নেতার আগমনে সাধারণ ভোটার ও জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, শনিবারের এই জনসভা শহরটিকে এক জনসমুদ্রে রূপান্তরিত করবে এবং পিছিয়ে থাকা ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্য এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। 

সমাবেশ সফল করতে নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় জোরদার প্রচারণা চালিয়েছেন এবং জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দলের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে। বিএনপির এই নেতার মতে, তারেক রহমানের এই সফর আসন্ন নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।

তারেক রহমানের এই সফরে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি তার কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ইপিজেড প্রতিষ্ঠা, দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ থাকা বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা, একটি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা। 

এ ছাড়াও এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কলকারখানা স্থাপন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য প্রযুক্তিকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও প্রাধান্য পাবে। বিএনপি মনে করছে, এই প্রতিশ্রুতিগুলো ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি এবং তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নির্বাচনের মাঠে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Related Articles

Back to top button