নরসিংদীর রায়পুরা

দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনায় মামলা
অনলাইন ডেস্ক: নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্কুলছাত্র মুস্তাকিম মিয়া (১৩) নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত স্কুল ছাত্রের মা শাহানা বেগম বাদী হয়ে দুই জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার দুই আসামি হলেন মাসুম মিয়া ওরফে চায়না মাসুম ও মালেক মিয়া। তারা দুজনই এরশাদ গ্রুপের অনুসারী বলে জানা গেছে।
এর আগে গত বুধবার সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ‘হানিফ মাস্টার’ গ্রুপ ও ‘এরশাদ মিয়া’ গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে বালুচর গ্রাম থেকে এরশাদ গ্রুপের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সায়দাবাদ গ্রামে হানিফ মাস্টারের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে এবং কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে বসতবাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা কিশোর মুস্তাকিম সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। সংঘর্ষের সময় আগুনে অন্তত চারটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। গুলিবর্ষণ ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন।
নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদিপ্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
নিহত মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম বলেন, আমরা কোনো পক্ষের বা কোনো দলের নই। আমরা সাধারণ মানুষ। আমার শিশু সন্তান স্কুলে পড়ে। এছাড়া আমরা তো কোনো দলাদলিতে নেই। স্থানীয় সাবেক মেম্বার ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম মিয়া ওরফে চাইনা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। মামলা করেছি, এখন ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
রায়পুরা থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, আসামিরা ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে গেছে। এ কারণে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে অপরাধীদের দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।




