রামুতে বোমা সদৃশ সিলিন্ডারের উপর একদশক ধরে চলে ‘কাপড় কাঁচা’!

অনলাইন ডেস্ক: কক্সবাজারের রামুর কাউয়ারখোপে বোমা সদৃশ এক লোহার উপর গত একদশক ধরে চলেছে কাপড় কাঁচা। এটি দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা হিসেবে ধারণা করে উদ্ধারের পর নিস্ক্রিয় করার কার্যক্রম চলছে, রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন। 

ওসি বলেন, রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকায় একটি পুকুর ঘাটে বোমা সদৃশ এ বস্তুটি পাওয়া যায়। 

ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার মতে, রামুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পতিত অবিস্ফোরিত বোমা হতে পারে এটি। মূলত পুকুরে পড়ায় তা বিস্ফোরণ হয়নি হয়ত। পুকুর সংস্কার করতে গিয়ে একদশক আগে স্থানীয় কেউ পুকুর থেকে তুলে এটি পাড়ে রেখেছিল। সেখানেই পড়ে থাকা লোহার অংশ বিশেষ হিসেবে স্থানীয়রা গত ১০ বছর ধরে এটির উপর কাপড়চোপড় ধোঁয়ার কাজও করেছে।

ওসি মনির বলেন, স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বোমা সদৃশ বস্তুটির বিষয়ে পুলিশকে জানালে শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। এরপর তা নিরাপদ স্থানে রেখে চারপাশে সংরক্ষিত করার পাশাপাশি নজরদারিতে রাখা হয়েছি। পরে বিষয়টি সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়। সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে যায় এবং বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

স্থানীয় একটি সূত্র মতে, বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে রামুর ইতিহাস নিয়ে কাজ করা আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বোমা সদৃশ বস্তুটির দুটি ছবি শেয়ার করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই বস্তুটিকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা বলে দাবী করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি শেয়ার করে লেখেন- ‘২য় বিশ্বযুদ্ধের বোমা! এই বোমাটার উপর নাকি অনেকদিন যাবত মানুষ কাপড়কাচার কাজ করছে! এটাতে এক্সপ্লোসিভ আছে কিনা পরীক্ষা করা দরকার। না থাকলে সংরক্ষণ করা উচিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক হিসেবে। এটাও তো রামুর ইতিহাসের অংশ।’

ইতিহাস গবেষক আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া জানান, বোমা সদৃশ বস্তুটির বিষয় তিনি অনেক আগেই জেনেছিলেন। নিজের আগ্রহ থেকে বৃহষ্পতিবার তিনি এবং শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া সেটি দেখতে গিয়েছিলেন। তার ধারনা হয়তো এটি জাপানের তৈরী এবং বর্তমানে এটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের মতো তিনিও এটি দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা বলে ধারনা করেছেন। বস্তুটির আকার প্রস্ত গ্যাসের সিলিন্ডারের মতো এবং দৈর্ঘ্য আরও বেশী।

এদিকে বোমা সদৃশ বস্তুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে, সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। 

ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বোমা সদৃশ বস্তুটি ঘেরায় সংরক্ষণ করে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে জানানো হয়েছে। কাজ করছে সেনাবাহিনীও। উর্ধতন মহলে নির্দেশনা মতো পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে

Related Articles

Back to top button