স্বস্তিকার কড়া জবাব

‘সারাদিন কে কী বলল, কে কী খেলো, কে কার সঙ্গে শুলো—এই নিয়েই চর্চা’

অনলাইন ডেস্ক: টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় বরাবরই স্পষ্টভাষী। আর সে কারণে মাঝেমধ্যেই বেশ সমালোচনার জন্মও দেন এ অভিনেত্রী। 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা মন্তব্য করেন, মানুষের জীবনে একই সাথে একাধিক প্রেম থাকা ভালো। তার এই মন্তব্য নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় ঝড় চলছে। নেটিজেনদের একাংশ তার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। যদিও পাল্টা তোপে নেটিজেনদের ঘায়েল করতেও পিছপা হননি স্বস্তিকা। 

তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। 

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, স্বস্তিকা সাফ জানিয়ে দিলেন, যা বলেছেন বেশ করেছেন, আর কারও পরোয়া করে তিনি নিজের উত্তর বদলাবেন না। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, নিজের ভালো থাকা এবং সময় কাটানোর উপায় হিসেবে প্রেম করা কোনো অন্যায় নয়।

নিজের মন্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে স্বস্তিকা লেখেন, ‘হ্যাঁ বলেছি, বেশ করেছি। প্রেম নিয়ে যতবার মিডিয়া জিজ্ঞেস করবে, আমি এরকম বা আরও হরেক রকম উত্তর দেব।’ তিনি বিরক্তির সুরে জানান, মানুষ কেন একটা রসিকতাকে স্রেফ রসিকতা হিসেবে নিতে পারে না? সংবাদমাধ্যমের প্রতি তার কটাক্ষ, ‘এমনভাবে আমার উক্তিগুলোকে তুলে ধরছেন যেন আমি মহর্ষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন!’

সমালোচকদের পড়াশোনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বস্তিকা লেখেন, ‘জানেন মহর্ষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন কে? জানেন না। পড়াশোনা না করে সারাদিন কে কী বলল, কে কী খেলো, কে কার সঙ্গে শুলো—এই নিয়েই চর্চা।’ 

সমাজে প্রেম করাটা কবে থেকে এত বড় ‘অন্যায়’ হয়ে গেল, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। তার স্পষ্ট কথা, যারা তাকে প্রশ্ন করেন, দায় তাদেরই। প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দেবেনই, আর সেই উত্তর পছন্দ না হলে চাটনি পাকানোর কোনও মানে নেই।

নিজের জীবনদর্শন বুঝিয়ে দিয়ে অভিনেত্রী জানান, তিনি কাউকে খুশি করার জন্য উত্তর দেন না বা কারও কথা শুনে ‘কাশী’ চলে যাওয়ার পাত্রীও নন। 

তিনি আরও যোগ করেন, মানুষের হাতে সময় থাকলে সেটি প্রেম করে কাটানো উচিত। তা না হলে মানুষ আজেবাজে বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট করবেন।

নেটিজেনদের উদ্দেশে তার পরামর্শ, ফেসবুকে অন্যের পেছনে না লেগে নিজেদের ভালো থাকার রাস্তা খুঁজে বের করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বর্তমানে স্বস্তিকা তার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কালীপটকা’-এর প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর মাঝেই তার ব্যক্তিগত জীবন ও মতামত নিয়ে নতুন এই বিতর্কের সৃষ্টি হলো।

Related Articles

Back to top button