বরগুনা

দিনভর ২৫ জনকে কামড়ে পাশের গ্রামে হানা দিল বেওয়ারিশ কুকুর

অনলাইন ডেস্ক: বরগুনার পাথরঘাটায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে অন্তত ২৫ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার পদ্মা ও হাড়িটানা গ্রামে কুকুরের আক্রমণের এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এরমধ্যে পদ্মায় ১২ ও হাড়িটানা গ্রামে ১৩ জনকে কামড়েছে কুকুরটি। এরপর কুকুরটি পাশের গ্রামের দিকে চলে গেছে বলে ভাষ্য স্থানীয়দের।

সর্বশেষ গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কুকুরটি অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এতে পদ্মা, হাড়িটানাসহ আশপাশের গ্রামে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কুকুরের আক্রমণে বেশ কয়েকজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। ওই তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন।

বরগুনা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাখাল বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে সদর ইউনিয়ন থেকে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে অন্তত ২৫ জন হাসপাতালে এসেছেন। যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার সকাল থেকে পাথরঘাটার সদর ইউনিয়নের পদ্মা, রুহিতা ও হাড়িটানা গ্রামে একটি সাদা-কালো বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরে বেরিয়ে মানুষের ওপর আক্রমণ করতে থাকে। কুকুরটি দুপুর পর্যন্ত ওই গ্রামের বিভিন্ন মানুষের ওপর আক্রমণ করে। এসব এলাকায় অন্তত ২৫ জন আহত হন। 

পদ্মা গ্রামের বাসিন্দা হিরু জমাদ্দার বলেন, আমাদের পরিবারের তিনজনকে কামড়ে কুকুরটি পার্শ্ববর্তী গ্রামের দিকে চলে গেছে। গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

হাড়িটানা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সাহিন বলেন, তার চাচা আবুল কালামের ওপরও একই কুকুরটি আক্রমণ করে এবং তার গালের মাংস ছিঁড়ে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরিশাল পাঠানো হয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ দাস জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কুকুর নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই কুকুর নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন প্রয়োগসহ মানবিক পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি। এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হবে।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button