জুলাই সনদের আলোচনা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে: চরমোনাই পীর

অনলাইন ডেস্ক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, “জুলাই সনদের আলোচনা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। এটি হতাশাজনক। জুলাই সনদের পক্ষে যদি বিপুল জনসমর্থন প্রদর্শিত না হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকার এবং আসন্ন **ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সবকিছুই প্রশ্নের মুখে পড়বে।”

গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে ইসলামী আন্দোলনের মিডিয়া সেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

চরমোনাই পীর বলেন, “আমরা বারংবার বলেছিলাম, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আলাদা করে আয়োজন করুন। এই জাতীয় নির্বাচনসহ সবকিছুই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের বরাতেই বৈধ হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজন করলে জুলাই সনদের আলোচনাই আড়ালে চলে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সেই দাবিকে উপেক্ষা করার পরিণতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। তাই জুলাই সনদের আলোচনা জারি রাখা গুরুত্বপূর্ণ।”

চরমোনাই পীর বলেন, “চব্বিশের জুলাইয়ে জনগণ কেবল নির্বাচনের জন্য জীবন দেয়নি, বরং একটি মহৎ উদ্দেশ্যের জন্য রাজপথে লড়াই করেছে। জুলাই সনদে সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি না হলেও অনেকাংশে প্রতিফলিত হয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনসহ দেশের পুনর্গঠনের সুবর্ণ সুযোগ আসলেই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এসেছে। ওই সময়ের শিক্ষার্থী ও জনগণ রাজপথে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে, যা আমাদের ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছে।”

পীর বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদ উৎখাত হলেও ফ্যাসিবাদী আইন, রীতি ও সংস্কৃতি এখনও বিদ্যমান। দেশ থেকে স্থায়ীভাবে ফ্যাসিবাদ দূর করতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করতে হবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।”

তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জুলাই সনদের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে।

চরমোনাই পীর উল্লেখ করেন, “সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য জননিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে এখনও উদ্বেগ বিদ্যমান। সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

Related Articles

Back to top button