ঢাকায় বৈঠকে চূড়ান্ত হবে দিনক্ষণ

ঢাকা-কলকাতা রুটে ‘মৈত্রী’ ফের চালু হতে পারে সেপ্টেম্বরে

অনলাইন ডেস্ক: ১৮ জুলাই ২০২৪ থেকে বন্ধ ঢাকা-কলকাতা রেল যোগাযোগ, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের বৈঠক ঘিরে আশাবাদী মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের প্রত্যাশা, ঠিক হতে পারে চালুর তারিখ। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঐ বৈঠকেই মৈত্রী এক্সপ্রেসসহ বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের ৮ থেকে ১০ তারিখ ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে ইন্টার-গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। বৈঠকের মাধ্যমে ট্রেনটি কবে থেকে চালানো হবে, সেই দিনক্ষণ নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করছেন।

মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল। ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালুর পর ট্রেনটি দ্রুতই দুই দেশের যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২২ সালের ২৯ মে আবার মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করে।

পুনরায় চালুর পর ঢাকা-কলকাতা রুটে যাত্রীদের চাপও ছিল উল্লেখযোগ্য। ৪৬৫ আসনের মৈত্রী এক্সপ্রেসে স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ট্রিপে গড়ে প্রায় ৩০০ যাত্রী যাতায়াত করতেন। বিশেষ মৌসুমে আসন পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রীর চাপও তৈরি হতো। ফলে দুই দেশের মধ্যে আকাশ ও সড়কপথের পাশাপাশি রেল যোগাযোগের চাহিদাও ছিল ব্যাপক।

তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আবারও বন্ধ হয়ে যায় মৈত্রী এক্সপ্রেস। বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রা ১৮ জুলাই ২০২৪ থেকে স্থগিত রয়েছে।

বন্ধ থাকার সময়ে যাত্রীদের বড় একটি অংশকে বিকল্প হিসেবে সড়ক ও আকাশপথ ব্যবহার করতে হয়েছে। বিশেষ করে চিকিত্সা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটনের প্রয়োজনে ঢাকা-কলকাতা যাতায়াতকারী মানুষের কাছে মৈত্রী এক্সপ্রেস ছিল তুলনামূলক আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী একটি মাধ্যম।

এবার তাই সেপ্টেম্বরের বৈঠক ঘিরে যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শুধু মৈত্রী এক্সপ্রেস নয়, বন্ধ থাকা অন্যান্য আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত পুরোনো সময়সূচিতে মৈত্রী এক্সপ্রেস সপ্তাহে একাধিক দিন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও কলকাতার মধ্যে চলাচল করত।

তবে এখনই ট্রেন চালুর নির্দিষ্ট তারিখ বলা যাচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের বৈঠকে দুই দেশের সম্মতি ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত হবে মৈত্রী এক্সপ্রেসের পুনরায় যাত্রার দিনক্ষণ। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই রেল যোগাযোগ কবে আবার সচল হবে, তার উত্তর এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ঢাকার ঐ বৈঠকের ওপর।

Related Articles

Back to top button