সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী

বাজেট অন্তর্ভুক্তিমূলক, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে
অনলাইন ডেস্ক: এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনেক। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট এ কারণে ভিন্ন যে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ও প্রতিটি নাগরিককে কেন্দ্র করে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি। যদি কোনো ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে সমাজের সব শ্রেণি-পেশা ও সব ধরনের মানুষের জন্যই এই বাজেটে কিছু না কিছু রয়েছে। কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে আছে বলে আমি মনে করি না।
মন্ত্রী আরো বলেন, বিগত সময়ে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর অবস্থায় চলে গেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ফলে সীমিত সম্পদের মধ্যে সবার প্রত্যাশা পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই সীমাবদ্ধতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা সহজ কাজ ছিল না। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিটি মানুষকে এই বাজেটের আওতায় নিয়ে আসতে। তিনি বলেন, অতীতে অর্থনীতি ছিল কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সুবিধাভোগী মহলের নিয়ন্ত্রণে। যারা সংগঠিত বা প্রভাবশালী ছিলেন না, তারা অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে থেকে গেছেন। এবারের বাজেটে সেই মানুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অভিঘাত এসেছে। বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণভাবে ব্যয় কমিয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো যায়। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে মানুষের ব্যয় কমানো যায়, সে বিষয়েই আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় সরকার’
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রোগ্রামিং ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার আগের প্রচলিত ধারা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত করে। অর্থনীতির ভাষায় যাকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়। তবে এক্ষেত্রে রাতারাতি বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, গত দেড় দশকে গড়ে ওঠা পরিস্থিতি এক দিনে বদলানো যাবে না। তবে সরকার ধীরে ধীরে সেই পথে এগোচ্ছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চলতি বাজেটে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নতুন প্রবণতা বা ধারা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখা গেলে ভবিষ্যতে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ আরো কমে আসবে।
ব্যাংক ঋণ প্রসঙ্গে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানান, চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেটে তা কমিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে ইক্যুইটি ও বাজারভিত্তিক অর্থায়নের দিকে যেতে চায়। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রিন বন্ড, অরেঞ্জ বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বন্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজার ও আর্থিক বাজারকে আরো গভীর ও কার্যকর করার প্রচেষ্টা চলছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হলে দুর্নীতি কমবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী। বেতন বাড়িয়ে দুর্নীতি কমবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, তাই বেতন সমন্বয় করা জরুরি। স্বাভাবিকভাবে মানুষের যখন অভাব থাকে তখন দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। এটা তো অস্বীকার করে লাভ নেই। গত ১১ বছর ধরে পে-স্কেল নেই, কিন্তু এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের ব্যয় মেটাতে সমস্যা হচ্ছে।
‘১৬০ একর জায়গা জুড়ে হবে ক্রিয়েটিভ সেন্টার’
দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন ও পর্যটন খাতকে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে পূর্বাচলে ১৬০ একর জায়গা জুড়ে একটি সমন্বিত ক্রিয়েটিভ সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, থিয়েটার, শিল্পকলা, ডিজাইন, বিনোদন ও সৃজনশীল কার্যক্রমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ কেন্দ্র শুধু মানুষের বিনোদনের নতুন ক্ষেত্রই তৈরি করবে না বরং সংস্কৃতিকে আয়মুখী করে কর্মসংস্থান ও পর্যটনেরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
পর্যটনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশি পর্যটক কম আসা এখনই বড় উদ্বেগের বিষয় নয় বরং দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্য সুযোগ ও অবকাঠামো তৈরি করা গেলে তা অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এ বাস্তবতায় সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’র আওতায় বিনোদন ও পর্যটনকে একীভূত করে নতুন অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে :এনবিআর চেয়ারম্যান
প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এ বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার ব্যবস্থা নয়, বরং সম্পত্তি লেনদেনে প্রকৃত মূল্য ঘোষণার মাধ্যমে কর-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের একটি প্রস্তাব করা হয়েছে। জমি প্রকৃত মূল্যে বিক্রি হলেও কম দামে নিবন্ধন করা হয়। এতে বিক্রেতারা প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের অতিরিক্ত অর্থের উত্স ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েন। এ অবস্থায় ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের প্রমাণ ও বায়না নামা উপস্থাপন করতে পারলে তারা নিয়মিত হারে মূলধনি মুনাফার ওপর কর পরিশোধ করে সেই অর্থ আয়কর নথিতে প্রদর্শনের সুযোগ পান। এই পরিস্থিতিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রকৃত মূল্য ঘোষণা করলে নিয়মিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের বিধান নিয়ে আপত্তি থাকলে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একটি মহল ইসলামী ব্যাংককে অস্থির করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে : গভর্নর
ইসলামী ব্যাংকে সরকারের বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ নেই বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সংশ্লিষ্ট এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো অযাচিত হস্তক্ষেপ করেনি। বরং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গভর্নর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ইসলামী ব্যাংকে যে পরিচালনা পর্ষদ পাওয়া যায়, সেটি পাঁচ সদস্যের ছিল। পরবর্তীকালে একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি। তিনি দাবি করেন, আমরা ইসলামী ব্যাংককে কোনো ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দেইনি, কাউকে চাকরি দিতে বলিনি, কিংবা কোনো পদোন্নতির ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করিনি। তারপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। একটি মহল ইসলামী ব্যাংককে অস্থির করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
আমানতকারীদের উদ্দেশে গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তারা যে কোনো সময় তাদের আমানত তুলতে পারবেন। এ বিষয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। প্রয়োজনীয় তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, আগামী দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করব ফলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। গভর্নর বলেন, আমরা ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছি।, ব্যাংক আমানতের এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় পুরো খাতকে স্থিতিশীল করতে সবার ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন। কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) আমানতকারীরা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে টাকা ফেরত পাননি। আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবেরও জবাব দেন গভর্নর। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখা যায়, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন এবং নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী নতুন এমডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন সংগ্রহ, সাক্ষাত্কার এবং অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস সময় লেগেছে। তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। সব ধরনের নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে।
ব্যক্তিগতভাবে তিনি খেলাপি কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, আমি গভর্নর হওয়ার আগে একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলাম। সেখানে কখনো বেতন বকেয়া পড়েনি। ঐ প্রতিষ্ঠান কখনো খেলাপি হয়নি। পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে গভর্নর বলেন, চুরি হওয়া অর্থ ফেরানোর সফলতা বিশ্বে খুব কম। এ ধরনের অর্থ উদ্ধারে গড়ে ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সফলতার হারও মাত্র ২ শতাংশ। তবে আমরা বসে নেই। বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া অর্থের অনুসন্ধান চলছে। কিছু ক্ষেত্রে আমরা চিহ্নিত করেছি। অর্থ পাচারকারীদের শন্তিতে থাকতে দেব না।
হরমুজ সংকটেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে বাংলাদেশ :জ্বালানিমন্ত্রী
জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট ও হরমুজ প্রণালির জটিলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। বিদ্যুত্ খাতের আর্থিক চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুত্ খাতে বড় ধরনের বকেয়া ও আর্থিক ঘাটতি ছিল। বিদ্যুত্ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে, যা ধীরে ধীরে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় উত্পাদন বাড়াতে বাপেক্সকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে সমুদ্রের ব্লকগুলোতে যৌথভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো যায়। আগামী এক মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
ক্যাপাসিটি চার্জ ইস্যুর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা হলোা—অনেক বিনিয়োগকারী জানিয়েছেন যে ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করলে তাদের পক্ষে ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক দায় সামলিয়ে বিদ্যুত্ কেন্দ্র চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় হঠাত্ করে ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে দেশে আবার বিদ্যুত্ সংকট তৈরি হতে পারে, তাই বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে।




