গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা জামায়াতের সঙ্গে জোটে রাজি ছিলেন না: মুশফিক উস সালেহীন

অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনের অনেক আগেই জোটবদ্ধভাবে ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে দাবি করেছেন দলটির সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন। তবে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের পক্ষে ছিলেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
সোমবার (১ জুন) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান এনসিপির এই সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা।
পোস্টে মুশফিক দাবি করেন, ‘মিডিয়ায় যে যাই বলুক না কেন, এনসিপির বড় নেতারা অনেক আগেই মনস্থির করেছিলেন যে নির্বাচন তারা জোটবদ্ধভাবেই করবেন। কিন্তু কাদের সাথে জোট হবে তা নিয়ে সবাই একমত হতে পারছিলেন না। নির্বাচনের আগে সর্বশেষ ইসি মিটিংয়ের (নির্বাহী কাউন্সিলের বৈঠক) আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে যতোগুলো ইসি বা জেনারেল মিটিং (সাধারণ সভা) হয়েছে, প্রতিটাতেই এককভাবে বা বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তৃতীয় জোট গঠন করে নির্বাচন করার পক্ষে মত বেশি ছিলো। এ সংক্রান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটা মিটিং হয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের গেজেট যেদিন প্রকাশিত হয়, সেদিন রাতে। সেই মিটিংয়ে মূল দল, ছাত্র ও যুব সংগঠনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অফিসিয়ালি দলের বাইরে থাকা দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও সেদিন উপস্থিত ছিলেন।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই সনদের গেজেট প্রকাশের দিন রাতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মূল দল, ছাত্র ও যুব সংগঠনের নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন। সেখানে উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য এককভাবে বা তৃতীয় জোটের মাধ্যমে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে জোটের পক্ষে আটজন এবং জামায়াতের সঙ্গে জোটের পক্ষে সাতজন মত দেন।
মুশফিক আরও দাবি করেন, ‘একক বা তৃতীয় জোট করে নির্বাচনে গেলে অন্য দুই জোটের তুলনায় কম আসনে জেতা সম্ভব হবে, এই বাস্তবতা মেনেই আমরা সেই মত দিয়েছিলাম। কিন্তু জামাতের সাথে জোট করার পক্ষে ছিলেন খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি। অতি গুরুত্বপূর্ণ যে দুইজন ব্যক্তি জামাতের সাথে জোটের পক্ষে ছিলেন না, তাদের একজনকে জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দলে যোগ দিতে দেয়া হয় নাই, আরেকজন শেষমেশ আর দলেই যান নাই।’
ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, দলের কিছু নেতা বিভিন্ন সদস্যকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, এককভাবে নির্বাচন করলে কেবল কয়েকজন প্রার্থীই বিজয়ী হতে পারবেন। এ প্রেক্ষাপটে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়। তার ভাষ্যে, ‘মিটিংয়ের পর আমাদের কয়েকজনকে এসে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে দল এককভাবে নির্বাচন করলে শুধু হাসনাত আব্দুল্লাহ আর তাসনিম জারা জিতবেন। এই দুইজন জিতবেন কারণ জোট না করলেও জামাত তাদের সাংগঠনিকভাবে ‘‘ব্যাকআপ’’ দিবে, মূলত জামাতের ভোটেই তারা জিতবে, এর বাইরে কেউ সংসদে যেতে পারবে না। আর একারণেই সেই দুইজন এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন। সংসদ সদস্য হওয়ার পরে দল চলে যাবে এই দুইজনের নিয়ন্ত্রণে, আর এই দুইজনের নিয়ন্ত্রণ মানে জামাতের নিয়ন্ত্রণে। তাই জামাতের হাতে দল চলে যাওয়া ঠেকাতে জোটবদ্ধ হয়েই নির্বাচন করা লাগবে। আসন কম দেয়া, চাঁদাবাজির কারণে নেতিবাচক ইমেজ ও সংস্কার বিরোধী হওয়ায় বিএনপির সাথে তো যাওয়া যাবে না, তাই জামাতের সাথে জোট করা ছাড়া উপায় নেই।’
এছাড়া মুশফিক দাবি করেন, দলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে তাসনিম জারা ও খালেদ সাইফুল্লাহকে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছিল। তবে জামায়াতের সঙ্গে জোটের প্রতিবাদে তাদের পদত্যাগই প্রমাণ করেছে যে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের ‘এজেন্ট’ ছিলেন না।
পোস্টের শেষদিকে তিনি বলেন, এনসিপির ভেতরে পারস্পরিক অবিশ্বাসের সংস্কৃতি রয়েছে এবং দলটির বিভিন্ন স্তরে বিভক্তি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। এমনকি নেতৃত্ব পর্যায়েও একাধিক গ্রুপ সক্রিয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি লিখেছেন, ‘জুলাই পদযাত্রায় দেখেছি মঞ্চে উঠা, বক্তৃতা দেয়া, হাততালি-স্লোগান পাওয়া নিয়ে একেকজনের ইনসিকিউরিটি (হীনম্মন্যতা) আর জেলাসি (ঈর্ষা)।’
মুশফিক উস সালেহীন যে দুজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জামায়াতের সঙ্গে জোটের পক্ষে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন, তারা হলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। এর মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর গত ২৯ ডিসেম্বর এনসিপিতে যোগ দেন। আর মাহফুজ আলম এনসিপিতে যোগ না দিয়ে ‘অলটারনেটিভস’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়েছেন।




