সিলেটে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরবে কোরবানির বর্জ্য

অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন ঈদুল আজহায় পশু জবাইয়ের পর কোরবানির বর্জ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণকে পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশজুড়ে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য পরিষ্কারের সরকারি নির্দেশনার চেয়েও চার ঘণ্টা এগিয়ে থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।

গতকাল সোমবার (১৮ মে) বিকেলে নগর ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ প্রস্তুতি সভায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জবাইয়ের পর মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুরো সিলেট নগরীকে সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত করতে হবে এবং এই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা অজুহাত বরদাশত করা হবে না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশজুড়ে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য সরানোর নির্দেশনা দিলেও আমরা সিলেটে ৮ ঘণ্টার মধ্যে তা সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই লক্ষ্য যেকোনো মূল্যে অর্জন করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গতিশীলতা ও কাজের উৎসাহ বাড়াতে এবার একটি বিশেষ প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কারেরও ঘোষণা দেন তিনি। যে ওয়ার্ডে সবচেয়ে কম সময়ে এবং নিখুঁতভাবে বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ হবে, সেই ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিশেষ লজিস্টিক ও প্রশাসনিক সহায়তার পাশাপাশি পুরস্কৃত করা হবে।

তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোরবানির পর বর্জ্য যেখানে-সেখানে ছড়িয়ে না রেখে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে কিংবা ব্যাগে ভরে রাখা উচিত, যাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সহজেই সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারেন। একই সাথে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার পূর্বের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন বিগত দিনগুলোতেও অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাঠপর্যায়ে কর্মরত সকলের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এবারও নির্ধারিত সময়ের আগেই শতভাগ সফলতা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ। এছাড়াও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সচিব ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ এলাকার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

Related Articles

Back to top button