ময়মনসিংহে সড়ক-মহাসড়ক এখন ‘ধানের চাতাল’, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক: ময়মনসিংহের বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ধান ও খড় শুকানোর কারণে দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সড়কের দুই পাশ জুড়ে কৃষকরা ধান ও খড় শুকাতে দেওয়ায় সড়কের প্রস্থ অনেক জায়গায় কমে যাচ্ছে, ফলে যানবাহন চলাচলে তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।

ঢাকা-ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ-শেরপুর, ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সড়কে শুকানো হচ্ছে ধান, ধানের খড়। শুধু মহাসড়কগুলোতেই নয়, আঞ্চলিক সড়কগুলোর চিত্রও একই রকম। ধান মাড়াইয়ের পর খড়গুলো শুকানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে সড়কে। এতে সড়কে প্রস্থ কমে যাওয়া ও সীমানা বুঝতে না পারায় গাড়ির চাকা পিছলে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

ময়মনসিংহ থেকে হালুয়াঘাটগামী মোটরসাইকেল চালক আব্দুল হক লিটন জানান, ‘বোরো মৌসুম হোক বা আমন মৌসুম, প্রতিবার ধান কাটার পর সড়কে খড় শুকানো হয়। এতে সড়কের দুই পাশ ঢেকে যায়। আমরা যখন বড় গাড়িগুলোকে সাইড দিতে যাই, তখন খড়ের কারণে সড়কের সীমানা বোঝা যায় না। এতে চাকা পিছলে গিয়ে খাদে পড়ে যাই। খাদে পড়ে যাওয়ার পরিবর্তে যদি সড়কের ওপর পড়ি, তাহলে সামনে বা পেছন দিক থেকে বাস বা ট্রাক চাপা দিয়ে চলে যাবে।’

শেরপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাস চালক দিলীপ রায় জানান, ‘সড়কে খড় শুকানোটা আমাদের জন্য অনেক বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক এমনিতেই কম প্রশস্ত। তার ওপর সড়ক দখল করে শুকানো হচ্ছে খড়। সড়কগুলোর প্রস্থ একেক জায়গায় একেক রকম হওয়ায় খড়ের কারণে এর সীমানা বোঝা যায় না। এতে খড়ের মধ্যে গাড়ি চালানোটা মুশকিল হয়ে পড়ে।’

গৌরীপুর উপজেলার কৃষক আবদুল সালাম জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সব জমি ভেজা। ধান ও খড় শুকানো তেমন কোনো জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে সড়কে ধান খড় শুকাচ্ছি। তবে অনেকের অভিযোগ, শুধু বৃষ্টির অজুহাতে নয়। সব সময় তারা এভাবে সড়ক দখল করে ধান ও খড় শুকাতে দেয়। না করলে মারমুখী আচরণ করে।

নিরাপদ সড়ক চাই ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি আবদুল কাদের চৌধুরী জানান, সড়ক দখল করে ধান খড় শুকানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু চালক ও যাত্রীদের জন্য নয়, যারা এ কাজ করছে তাদের জন্যও আছে ঝুঁকি। সড়কে কাজ করার সময় গাড়ি চাপা দিতে পারে তাদের। আবার তাদেরকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়ি উলটে বা খাদে পড়ে যেতে পারে। এতেই ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। তাই সড়ক বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের উচিত এসব বন্ধে কৃষকদের সচেতন করা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. উম্মে হাবিবা জানান, ধান কাটার সময়ে সারা দেশে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। ময়মনসিংহেও ভারী বর্ষণে অনেক জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক জমি এখনো ভেজা অবস্থায় রয়েছে। তাই কৃষক তাদের কষ্টের ফসল রক্ষার জন্য সড়ক বেছে নিয়েছে কোনো উপায় না পেয়ে। তবে, কৃষকদের এ বিষয়ে সচেতনতার সঙ্গে কাজ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে করা হবে।

Related Articles

Back to top button