প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল চালু করতে তোড়জোড়

অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ দুই বছর প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল। পর্যাপ্ত অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বরাদ্দ না আসায় হাসপাতালটি চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এছাড়া এ হাসপাতালটি পরিচালনা নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) টানাপোড়েন চলছিল। তবে হাসপাতালটি চালুর করার জন্য দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চাহিদাপত্র ইতিপূর্বে দেওয়া হয়েছে। এদিকে হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান নতুন করে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র জমা দিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ৩ একর জায়গায় ২০২০ সালে আধুনিক ডিজাইনের তিন তলাবিশিষ্ট ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ করে মেসার্স এম এন হুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ভবন হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ না হওয়ায় বিষয়টি ঝুলে থাকে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, কুমিল্লাসহ দেশের ছয়টি জেলায় ৩২০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ছয়টি হাসপাতাল ভবন নির্মাণকাজ শেষ হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী সময়ে সরকার এসব হাসপাতাল চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়নি। গত রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর ছয়টি হাসপাতাল চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তোড়জোড় শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়। 

কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লায় এ হাসপাতালটি চালু করতে আজ (সোমবার) মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় জনবল, শিশুদের এনআইসিইউসহ আধুনিক মানের চিকিৎসা সরঞ্জামাদির চাহিদাপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটি চালু হলে কুমেক হাসপাতালের শিশুবিভাগ ও জেনারেল (সদর) হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ কমবে এবং ঢাকায় না গিয়েও কুমিল্লাসহ আশপাশের জেলার শিশু রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের বলেন, নির্ধারিত সময়ে এই হাসপাতালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও কোনো দপ্তর ভবনটি বুঝে নেয়নি। তবে সরকার চাইলে যে কোনো সময়ে বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, ভবনটি বুঝে নিতে আমাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনার পর আশা করি, শিগিগরই আমরা হাসপাতালটি চালু করতে পারব।

Related Articles

Back to top button