জামালের অনুরোধ রাখলেন আমিনুল

অনলাইন ডেস্ক: গত রোববার দেশের ১৭১ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়াকার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। ফুটবল হকি, সাঁতারসহ ১৭টি খেলার ক্রীড়াবিদ হাজির হয়ে ক্রীড়াকার্ড ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের হাত থেকে গ্রহণ করেছেন। প্রত্যেক ক্রীড়াবিদকে আমিনুল নিজ হাতে ক্রীড়াকার্ড তুলে দিয়েছেন। আর এই আয়োজনের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের টাওয়ারে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে দেশের খ্যাতানামা সব সংগঠকও হাজির ছিলেন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন না বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তিনি আমিনুলের হাত থেকে আলাদাভাবে এবং এককভাবে ক্রীড়াকার্ড গ্রহণ করতে চান। তার চাওয়া পূরণের অনুরোধ রক্ষা করেছেন আমিনুল।
গতকাল সকালে মিরপুরে আমিনুলের বাসায় গিয়েছিলেন জামাল ভুঁইয়া। সেখানেই ক্রীড়াকার্ড তুলে দেন আমিনুল। গতকাল দুপুরে চীন সফরে গেছেন আমিনুল। সকাল বেলা তার ব্যস্ততা ছিল। পারিবারিক ব্যস্ততা, রাজনৈতিক ব্যস্ততা, মন্ত্রণালয়ের ব্যস্ততা, বেলা ১টায় বিমান ধরতে হবে। ভদ্রলোক আমিনুল কথা রাখলেন জামালের। এত ব্যস্ততার মধ্যেই জামালের হাতে তার ক্রীড়াকার্ড তুলে দিলেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের হল রুমে সবার সঙ্গে ক্রীড়াকার্ড না নিয়ে আলাদাভাবে কার্ড গ্রহণ করার সুযোগ নিলেন জামাল।
জানা গেছে, জামালের খেলা ছিল বলে অনুষ্ঠানের দিন হাজির হতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় ক্রীড়াকার্ড বিতরণের দিনে জামাল ভুঁইয়ার ব্রাদার্সের খেলা ছিল না। ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমের খান জানিয়েছেন খেলা ছিল ১৮ এপ্রিল, শনিবার। আর কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠান হয়েছে ১৯ এপ্রিল রোববার।’ খেলার পরদিন বিশ্রাম থাকে। খেলোয়াড়রা ছুটি কাটান। তখন কে কোথায় যাবেন সেটা নিয়ে কোনো বিধি নিষেধ থাকে না। তাহলে ছুটির দিনে জামাল কোথায় ছিলেন, তিনি কি এককভাবে আমিনুলের হাত থেকে ক্রীড়াকার্ড গ্রহণ করবেন বলে অনুষ্ঠানে যাননি? বিষয়টি জানতে জামালকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রে খেলেছেন জামাল। তখনকার অভিজ্ঞতার কথা জানা গেল ওই ক্লাবের এক কর্মকর্তার কাছ হতে। চুক্তিবদ্ধ সব ফুটবলার তাদের পারিশ্রমিক দ্রুত গ্রহণ করলেও জামাল থাকতেন দূরে দূরে। সবাই সবার টাকা নিয়ে গেছে, জামাল কেন আসছে না। ফোন করা হলে জামাল বলতেন ক্লাবের সভাপতির হাত থেকে টাকা নেবেন। অন্য কারো কাছ থেকে চেক বা টাকা গ্রহণ করবেন না। তখন ক্লাবের সভাপতি ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকের ছেলে।
ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভূঁইয়া ২০১৩ সালে বাংলাদেশের ফুটবলে পা রাখেন। এখন জাতীয় দলের অধিনায়ক হলেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ম্যাচে নামানো হয় না। জামাল আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন, কিন্তু মাঠে অন্য কোনো ফুটবলার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। জামালকে মাঠে নামানো হয় প্রীতি ম্যাচে। তিনি বাংলাদেশের একমাত্র ফুটবলার যে, জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েও প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে কোনো ক্লাব পান না। কেউ তাকে নেয় না। নিতে চায় না।
একমাত্র ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমের খান তাকে খেলার সুযোগ করে দিতে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন, অধিনায়ক করেছেন। আমের খান বলেছিলেন, ‘জাতীয় দলে অধিনায়ক হয়ে কোনো ক্লাব না পাওয়াটা খারাপ দেখায়। আমি নিয়েছি। খেলুক। অন্য কোনো ক্লাব যদি নিতে চায় নিবে।’




