একটি সেতুর অপেক্ষায় তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ

অনলাইন ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী কলিমাজানি বাজার সংলগ্ন লৌহজং নদীর ওপর নির্মাণাধীন পাকা সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। দেড় বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘসূত্রতায় সেতুটি এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেতুর উপরের অংশে গার্ডার স্থাপন এবং দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় পুরো প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ফলে তিনটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে প্রতিদিন যোগাযোগে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষাকালে খেয়া নৌকা এবং শুকনো মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা।
গতকাল (১৪ এপ্রিল) সরেজমিনে কলিমাজানি বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অসমাপ্ত সেতুর কারণে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.৮ মিটার প্রস্থের সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির দায়িত্ব পায় মেসার্স সালাম এন্টারপ্রাইজ। তবে কিছু কাজ করার পর মালামালের দাম বৃদ্ধি ও নানা অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়।
কলিমাজানি এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম এবং সোহাগপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী বাবুল সিকদার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় একটি পাকা সেতুর দাবি ছিল। সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় গোড়াই, বহুরিয়া ও ভাওড়া ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ধামরাই ও কালিয়াকৈর উপজেলার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বলেন, “সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় তিন ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে গার্ডার স্থাপন ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণসহ কাজ শেষ হচ্ছে না। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সেতুর কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিভিন্ন জটিলতার কারণে বাকি কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. মনিরুল সাজ রিজন বলেন, “অর্থসংকট ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদার কাজ শুরু করেছেন। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




