সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ

প্রয়োজনে আগামী মাসে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করবে

অনলাইন ডেস্ক: বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদকে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে সরকার আগামী মাস থেকে জ্বালানি  তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করবে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটা আইন আছে। সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গত মাসে সমন্বয় করে দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসের দামের ওপর আমরা কাজ করছি। যদি সমন্বয় করে দেখা যায় যে, দাম বাড়ানো দরকার, তাহলে আমরা মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সেই চিন্তা করব।

শওকতুল ইসলাম তার প্রশ্নে জানতে চান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কিনা? জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন-ইসরাইলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেলের দামের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকি  বেড়েছে। এ কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সব উত্স খুঁজে, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরো বলেন, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন ডিজেল মজুত আছে। আরো ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। অকটেন মজুত আছে ১০ হাজার ৫০০ টন। ৭১ হাজার ৫৪৩ টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। পেট্রোল ১৬ হাজার টন মজুত আছে। আরো ৩৬ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ দাম বাড়ায়নি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও দেশে শিল্প কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে।

মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকার অর্থদণ্ড এবং ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।

করোনার টিকাসহ সরঞ্জাম কেনায় ৪,৬৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিলঅভিযোগ পেলে তদন্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এদিকে, ফেনী-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন সংসদকে জানান, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে এপর্যন্ত করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় টিকাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম আমদানি ও কেনায় মোট ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি ২২ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে টিকা কেনায় ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সিরিঞ্জ কিনতে ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। টিকা ও সিরিঞ্জ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে ব্যয় হয়েছে আরো ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা। সিরিঞ্জ শিপিং খাতে খরচ হয়েছে ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮০ টাকা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টিকা কেনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনিয়মের কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে, সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ-সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নওগাঁ-৪ আসনের এমপি ইকরামুল বারী টিপুর এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ২ হাজার ৯৮৪ জন সহকারী সার্জন, ২৭৯ জন ডেন্টাল সার্জন এবং ৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ৯৮ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস) ও ২২ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৬২ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস ডাক্তার) নিয়োগ দেওয়া হয়।

Related Articles

Back to top button