চীনে নতুন জ্বালানি ব্যবস্থার কথা ভাবছেন শি

অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল, ঠিক সেই মুহূর্তে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অভিনব ও শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই নতুন কৌশলের কথা ঘোষণা করেন। 

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তার মাঝে চীনের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতকে সুরক্ষিত রাখাই এখন বেইজিংয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন শি জিনপিং। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নিরিখে চীনের পরিকল্পনা ও নির্মাণকাজে দ্রুত গতি আনা প্রয়োজন বলে তিনি তাঁর বিবৃতিতে জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁর নতুন এই পরিকল্পনায় বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত ‘নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খলভাবে’ পরমাণু শক্তির প্রসারের মাধ্যমে বিকল্প জ্বালানির উৎস বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। 

তাঁর মতে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি বিশ্বের বর্তমান অস্থিতিশীল জ্বালানি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেই অনুযায়ী একটি আধুনিক ‘এনার্জি সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’ বা জ্বালানি সুরক্ষা কৌশল গ্রহণ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।

যদিও শি জিনপিং তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক সংঘাতের বিষয়টি সরাসরি উচ্চারণ করেননি, তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাই চীনের এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের মূল কারণ। চীনের মতো বিশাল অর্থনীতির দেশে শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেলের প্রয়োজন হয়, যার বড় একটি অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। 

যুদ্ধের ফলে তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা চীনের শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতেই চীন এখন বিকল্প শক্তির সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির এই সংকটময় সন্ধিক্ষণে চীনের এই নতুন জ্বালানি নীতি আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন যদি সফলভাবে পরমাণু ও জলবিদ্যুৎ শক্তির ওপর ভিত্তি করে নতুন ব্যবস্থা দাঁড় করাতে পারে, তবে তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের বর্তমান সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেবে।

শি জিনপিংয়ের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে বেইজিংয়ের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে। বর্তমান অস্থিতিশীল সময়ে এই নতুন কৌশলটি চীনের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: সিসিটিভি

Related Articles

Back to top button