ভারতের লক্ষ্য এখন লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক

অনলাইন ডেস্ক: আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের ঘরেই রেখে দিল ভারত। 

দীর্ঘ ২৮ মাস আগে এই মাঠেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল, সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন দলটি দাপুটে জয়ে সেই বিষাদ মুছে দিয়েছে। টানা তিনটি আইসিসি ইভেন্ট—২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং বর্তমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় দলের চোখ এখন ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের স্বর্ণপদক। লঙ অনে তিলক ভার্মার ক্যাচ ধরার সঙ্গে সঙ্গেই আহমেদাবাদের আকাশে আতশবাজির রোশনাই আর গ্যালারির ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শকের উল্লাসে শুরু হয় ভারতের বিশ্বজয়ের উৎসব।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তার দলের এই বিশেষ যাত্রার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতের বড় পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন যে, ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের পর ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে বিশেষ কিছু করার ইচ্ছা ছিল তাদের, যা এই হ্যাটট্রিক শিরোপার মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। 

সূর্যকুমার আরও যোগ করেন যে, ২০২৭ ও ২০২৮ সালেও তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান এবং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের অধীনে ভারতীয় ক্রিকেট দল সাদা বলের ক্রিকেটে বর্তমানে অপরাজিত শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যা অলিম্পিকের মঞ্চেও ভারতের আধিপত্য বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

১৯০০ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের মাধ্যমে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন ঘটছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেখানে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই ছয়টি করে দেশ অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। 

বর্তমানে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ভারত স্বাভাবিকভাবেই অলিম্পিকের অন্যতম ফেবারিট। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে পোমোনা শহরের ফেয়ারগ্রাউন্ডস স্টেডিয়ামে অলিম্পিকের ক্রিকেট ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের এই জয়যাত্রা সেই ঐতিহাসিক মঞ্চে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য এক শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ফাইনালে ভারতের ডাগআউটে থাকা মোহাম্মদ সিরাজ ও গৌতম গম্ভীরদের জয়োল্লাস ছিল দেখার মতো। শেষ দুই ওভারে কিউইদের জয়ের জন্য অসম্ভব ১০২ রান প্রয়োজন থাকলেও ভারতের ফিল্ডাররা বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি। 

রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অবসরের পর তরুণ ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়া এই ভারতীয় দল যেভাবে বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করছে, তাতে অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন এখন আরও বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে। টানা তিন শিরোপার আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভারত এখন বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ সম্মান অলিম্পিক মেডেলের দিকে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।

সূত্র: ক্রিকইনফো

Related Articles

Back to top button