১৪ বছর পর রিয়াল মাদ্রিদকে হারাল বায়ার্ন মিউনিখ

অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের মহরণ চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের প্রথম লিগে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে স্প্যানিশ জায়ান্টদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ২-১ গোল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে জার্মান ক্লাবটি।
সবশেষ ২০১১-১২ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ রিয়ালকে হারিয়েছিল, এরপর দীর্ঘ দেড় দশক পর আবারও লস ব্লাঙ্কোসদের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল বাভারিয়ানরা। এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে রইল হ্যারি কেনের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে মাঠের লড়াই। রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচের ৪৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখলেও এবং বায়ার্নের গোলবারে মোট ৩১টি শট নিলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কেবল একটি গোল আদায় করতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখ ৫২ শতাংশ বল পজিশন ধরে রেখে রিয়ালের গোলবারে ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে চারটি ছিল অনটার্গেট এবং তা থেকেই আসে দুটি মহামূল্যবান গোল। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে সার্জে গ্যানাব্রির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে লুইস দিয়াজ জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এবং বায়ার্নকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে পাঠান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বায়ার্নের আক্রমণভাগ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ম্যাচের শুরুর দিকেই মাইকেল অলিসের ব্যাক-পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের কোণা থেকে এক অবিশ্বাস্য শটে গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেন। এটি চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেনের ৪৯তম এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১তম গোল।
রিয়াল মাদ্রিদ ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠলে বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান। এমবাপ্পে এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নয়ার নস্যাৎ করে দেন।
ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ব্যবধান কমান কিলিয়ান এমবাপ্পে। ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের ক্রস থেকে বল পেয়ে নয়ারকে পরাস্ত করেন এই ফরাসি তারকা। ২-১ ব্যবধানে আসার পর ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা বিরাজ করলেও রিয়াল আর সমতায় ফিরতে পারেনি।
ইনজুরি নিয়ে সংশয় থাকলেও পুরো ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করা হ্যারি কেন ম্যাচ শেষে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন যে, তাঁরা আজ সত্যিই চমৎকার ফুটবল খেলেছেন এবং জয় নিয়ে ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগের আগে এই জয় বায়ার্ন মিউনিখকে মানসিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে।




