এশিয়া কাপ নারী ফুটবল শুরু আজ, অস্ট্রেলিয়ার স্মরণীয় আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক: এশিয়ায় নারী ফুটবলের বড় আসর শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। কিন্তু সেভাবে কখনো নারী ফুটবল এতটা আদর পায়নি। বাংলাদেশের কাছে এবার নারী ফুটবলের আদর সবচেয়ে বেশি। কারণ এবারই প্রথম নারী এশিয়া কাপ ফুটবলে খেলছে বাংলাদেশ। এটা ইতিহাস। কিন্তু বাংলাদেশ ছাড়া ১২ দেশের এই টুর্নামেন্টে বাকি ১১ দেশের অংশগ্রহণ নতুন নয়। পুরোনো এবং বেশ পুরোনো।
ফেভারিটের তালিকায় থাকা দেশ হচ্ছে চীন, উত্তর কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন ১৫ বার অংশগ্রহণ করে ৯ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ৯ বার অংশগ্রহণ করে তিন বার চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, জাপান দুই বার, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড একবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ২০০৬ সালে প্রথমবার আয়োজন করে এশিয়ান কাপ। এবার তারা দ্বিতীয়বার আয়োজন করছে। এশিয়া কাপ ফুটবলের আয়োজন হলেও অস্ট্রেলিয়া যেন বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে। এশিয়া কাপকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্বকাপ ফুটবলের মর্যাদায় এশিয়া কাপের আয়োজন করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সেই স্বাদ দিচ্ছে সবাইকে। দলগুলো অস্ট্রেলিয়া পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তাদেরকে অভাবনীয় অভ্যর্থনায় চমকে দিয়েছে। নাচ-গান করে দলগুলোকে বরণ করে নেওয়ার দৃশ্য খেলোয়াড়দেরকে আবেগ আপ্লুত করেছে।
এশিয়ান কাপের খেলা হবে অস্ট্রেলিয়ার তিন শহরে। গোলকোস্ট, সিডনি এবং পার্থে। আজ পার্থে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। থিম সং থাকবে। বিখ্যাত সব সংগীত শিল্পীরা গান গাইবেন, শত শত শিল্পী-কলাকুশলী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। আগেই সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউজের সামনে রুপালী ট্রফি উন্মোচন করা হয়েছে।
আজ থেকে ট্রফির লড়াই শুরু হবে। ১২ দেশ তিন গ্রুপে লড়াই করবে। আজ পার্থ শহরে বিকাল ৩টায় অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন মুখোমুখি হবে। বাংলাদেশ খেলবে আগামীকাল। প্রথম ম্যাচ সিডনিতে প্রতিপক্ষ চীন। সিডনিতে ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশ দল যাবে পার্থ শহরে, বি গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে।
গত ৯ দিন ধরে বাংলাদেশ দল সিডনিতে অনুশীলন করছে। একটি অনুশীলন ম্যাচও খেলেছে। তবে এখন বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে। এ মাঠেই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। মাঠের পরিবেশ দেখে নারী ফুটবলাররা দারুণ খুশি। এমন মাঠ বাংলাদেশে নেই কেন তাদের প্রশ্ন। যদি থাকত তাহলে বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে আরও উন্নতি হতো বিশ্বাস করেন খেলোয়াড়রা। এ ধরনের মাঠে খেলার সুযোগ বার বার হয় না।
আফঈদা খন্দকার, শিউলি আজিম, তহুরা, মনিকা, মারিয়া, সামসুন নাহাররা আগেও ভালো মাঠে খেলেছেন। তবে মখমলের মতো সবুজ মাঠ, আধুনিক মাঠের কথা মনে পড়ে যায় শিউলিদের। বাংলাদেশের সামনে সবই ভয়ানক প্রতিপক্ষ। পাওয়ার হাউজ চীন এবং উত্তর কোরিয়ার তুলনায় কিছুটা কম শক্তির দল উজবেকিস্তান। বাংলাদেশের হারানোর কিছু নেই। যদি ভালো কিছু করতে পারে সেটাই প্রাপ্তি। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জিততে চায়।
নারী ফুটবলে এত বড় আসরে এবারই প্রথম খেলছে বাংলাদেশ। ৩৪ দেশ থেকে ১২ দেশ এখন এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলছে। চূড়ান্ত পর্বে নির্ধারণ হবে এশিয়ার কোন দেশগুলো আগামী বছর ব্রাজিলে নারী বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলতে যাবে।




