এলডিসি উত্তরণ পেছানোর আবেদন পর্যালোচনা করছে সিডিপি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

অনলাইন ডেস্ক: স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার যে আবেদন করা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা শুরু করেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। 

এ বিষয়ে সিডিপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো এবং সিডিপির সদস্য দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে শুরু হওয়া সিডিপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বর্তমানে সিডিপির এনহ্যান্স মনিটরিং মেকানিজম (ইএমএম) উপকমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, ইএমএম কাঠামোর অধীনে ‘ক্রাইসিস বাটন’ নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা কেবল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বা কোনো অভাবিত সংকট তৈরি হলেই ব্যবহার করা হয়। 

বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণ পেছানোর আবেদন করার মাধ্যমে মূলত এই ‘ক্রাইসিস বাটন’ চেপে দিয়েছে। এখন জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সত্যিই অভাবিত বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে কি না। এই বিশেষ ক্যাটাগরির আওতায় আবেদনের যৌক্তিকতা পর্যালোচনার পরই সিডিপি তাদের প্রাথমিক মতামত প্রদান করবে।

আবেদন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো সম্পর্কে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেন যে, সিডিপি কোনো সিদ্ধান্ত নিলেই প্রক্রিয়াটি সেখানে শেষ হয়ে যায় না। সিডিপির সুপারিশ প্রথমে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসোক) উপস্থাপিত হবে এবং সেখান থেকে অনুমোদনের পর তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এলডিসি উত্তরণ না পেছানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বর্তমান নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই এই সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর জন্য আবেদন পেশ করে।

বাংলাদেশ ২০১৮ এবং ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি—এই তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছিল। 

নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালেই বাংলাদেশের এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু করোনা মহামারির প্রভাব বিবেচনায় তা দুই বছর পিছিয়ে ২০২৬ সাল নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন নতুন করে সময় বাড়ানোর এই আবেদন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতির বিষয়টি পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছে।

Related Articles

Back to top button