নির্বাচনে হেরে দুই কূলই হারালেন মাসুদ

অনলাইন ডেস্ক: শেরপুর-১ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ। মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট পান।
এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেব্রিন প্রিয়াংকা পান ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ জেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এর আগে তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। এছাড়া তিনি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় গত ১৩ জানুয়ারি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়।
জেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর মতে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলে তার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি ‘দুই কূলই হারিয়েছেন’ দলীয় অবস্থান এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দুটিই চাপে পড়েছে।
নির্বাচনের শেষপর্যায়ে এসে মাসুদ নিজেও বুঝতে পেরেছিলেন তিনি বিজয়ী হতে না পারলে দলের দরজা আজীবনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। সেই কারণে তিনি নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনার সময় বলতেন ‘আমাকে ভোট না দিলে, বিজয়ী না হতে পারলে আমি দুই কূলই হারাব। তাই আমাকে ভোট দিয়ে আমার অস্তিত্ব রক্ষা করুন।
পরাজয়ের পর সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বার্তায় মাসুদ লেখেন, ‘রাজনীতি হোক গণমানুষের জন্য, দল আমাকে সেই শিক্ষাই দিয়েছে। তাই তো আমি আমার ৩৩ বছরের রাজনৈতিক জীবন বিসর্জন দিয়ে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে শেরপুর সদরবাসীকে একটি শান্তির শেরপুর উপহার দিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আপনাদের ব্যাপক সমর্থন ও উদ্দীপনাও পেয়েছি। যারা আমার এ সংগ্রামে পাশে থেকে সহযোগিতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাকে মনোবল জুগিয়েছেন তাদের আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। নির্বাচনে হারজিত থাকবেই। গণমানুষের রায়কে আমি সম্মান করি। শেরপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবনের কঠিন অধ্যায় মোকাবেলার মাধ্যমে আমি যেন সব সময় নিজেকে উৎসর্গ করে আপনাদের পাশেই থাকতে পারি। সবার কাছে দোয়া চাই।’



