রোহিত শেঠির বাসায় গুলির নেপথ্যে কী

অনলাইন ডেস্ক: বলিউডের আলোচিত নির্মাতা রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনার দায় স্বীকার করার পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথিত সদস্য শুভম লোনকরকে ‘ওয়ান্টেড’ ঘোষণা করেছে পুলিশ। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হামলার দায় নেন। বর্তমানে তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে মুম্বাই পুলিশ ও মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে লোনকর দাবি করেছেন, রোহিত শেঠিকে তাদের কাজে ‘হস্তক্ষেপ’ না করার জন্য একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের ১২টি বিশেষ দল বর্তমানে এই মামলার তদন্তে কাজ করছে।

পুলিশের ধারণা, সাবেক মুম্বাই পুলিশ কমিশনার রাকেশ মারিয়ার জীবনের ওপর নির্মাণাধীন একটি চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করেই রোহিত শেঠি বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় আসতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরাসরি যোগসূত্রের প্রমাণ মেলেনি।

গত শনিবার গভীর রাতে—রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ১টার মধ্যে জুহু এলাকার রোহিত শেঠির আবাসন ‘শেঠি টাওয়ার’-এর বাইরে চার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। 

এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার পেছনে একজন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। গুলি চালানোর আগে তাকে ধূমপান করতেও দেখা যায়। 

পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কয়েক দিন আগে পুনে থেকে একটি মোটরসাইকেল কিনেছিলেন, যা অন্য একজনের নামে নিবন্ধিত ছিল। হামলার আগে তিনি এলাকা পরিদর্শন করে পালানোর পথের একটি ‘ম্যাপ’ তৈরি করে রাখেন।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাইকে করে এসে রোহিত শেঠির আবাসনের পাশের একটি ভবনের সামনে সেটি পার্ক করে। এরপর হেঁটে গিয়ে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।’ 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘একটি গুলি বারান্দার সেফটি গ্লাসে, দুটি প্রথম তলার দেয়ালে এবং বাকি দুটি প্রবেশপথের সুরক্ষা দেয়ালে লাগে।’

গুলি চালানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাইকে করে পালিয়ে যান। তবে টিউলিপ স্টার হোটেল মোড়ে পুলিশের নাকাবন্দি দেখে তিনি দিক পরিবর্তন করে জুহু চার্চের দিকে যান। ধরা পড়ার আশঙ্কায় চার্চের কাছে বাইকটি ফেলে রেখে একটি অটোতে ওঠেন। পরে একাধিক যানবাহন বদলে তিনি সান্তাক্রুজ স্টেশন হয়ে ট্রেনে করে কল্যাণ এবং সেখান থেকে পুনে পালিয়ে যান।

তদন্তে পুলিশ পরিত্যক্ত বাইকটি জব্দ করে ও নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে এর আসল মালিকের খোঁজ পায়। মালিক পুলিশকে জানান, তিনি সম্প্রতি ওই শুটারের কাছে বাইকটি বিক্রি করেছিলেন। এর ভিত্তিতে পুনে পুলিশের সহায়তায় পাঁচজনকে আটক করা হয়।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। দশতলাবিশিষ্ট শেঠি টাওয়ার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রোহিত শেঠির বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে পুরো বলিউডে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার ‘কার্যপদ্ধতি’ অভিনেতা সালমান খানের বাড়িতে আগের গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে। দুটি ঘটনাই তদন্ত করছে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

গুলিবর্ষণের সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুলিশ রাকেশ মারিয়ার লেখা ‘হোয়েন ইট অল বিগান’ ও ‘লেট মি সে ইট নাও’ বইয়ের প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। এসব বইয়ের স্বত্ব কিনেছেন রোহিত শেঠি। সাবেক পুলিশ কমিশনারের জীবনের ওপর নির্মিতব্য ছবিটি তিনি প্রযোজনা ও পরিচালনা করতে চলেছেন। ছবিতে রাকেশ মারিয়ার চরিত্রে অভিনয় করছেন জন আব্রাহাম। এর আগে বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অজয় দেবগন, নানা পাটেকর ও বনি কাপুর। তবে এই ছবির সঙ্গে হামলার কোনো সরাসরি সংযোগ এখনো পাওয়া যায়নি।

গত রোববার পুনের ধয়ারী ও কার্ভেনগর এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন আমন আনন্দ মারোতে (২৭), স্বপ্নিল সকত (২৩), সিদ্ধার্থ দীপক ইয়েনপুরে (২০), আদিত্য জ্ঞানেশ্বর গায়কি (১৯) এবং সমর্থ শিবশরন পোমাজি (১৮)। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী খুনের চেষ্টা ও অস্ত্র আইনের ধারায় জুহু থানায় মামলা হয়েছে। আদালত তাদের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের অভিযোগ, এই পাঁচজন মূল শুটারকে আশ্রয় ও তথ্যসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন।

গুলিবর্ষণের ঘটনার পর তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন রোহিত শেঠি। তিনি আগামী দুই দিনের জন্য তাঁর সব পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেছেন এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের অনুরোধ করেছেন, যেন অন্তত ৪৮ ঘণ্টা কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে না আসেন।

এদিকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য শুভম লোনকর এর আগে এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকি হত্যা মামলার পলাতক আসামি ছিলেন। 

পুলিশের ধারণা, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে; সম্ভবত নেপাল বা অন্য কোনো দেশে আত্মগোপনে আছেন। 

Related Articles

Back to top button