ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, যা বললেন রুমিন ফারহানা

অনলাইন ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার সমাবেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নির্বাচন আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে এই প্রার্থীর এক সমর্থককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বাকবিতণ্ডায় জড়ান রুমিন ফারহানা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুর স্থানীয় মাঠে রুমিন ফারহানার নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে রুমিন ফারহানার বক্তব্য চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তিনি দাবি করেন যে, এই সমাবেশ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ১৮ ধারা (নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও নিয়ম) লঙ্ঘন করেছে। এরপর সমাবেশটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং প্রার্থীর সমর্থক ও অনুষ্ঠানটির আয়োজক জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা তখন ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। রুমিন ফারহানা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে দাবি করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান। কিছুক্ষণ পর এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। 

তবে রুমিন ফারহানার দাবি- এটি অসৌজন্যমূলক আচরণ নয়। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রশাসনের ভূমিকা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। সেই বিষয়টি তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছেন। 

ঘটনার বিষয়ে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে বলেন, আমি স্টেজে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্টেজে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব বক্তব্য বন্ধ করে দেন এবং পুলিশকে নির্দেশ দেন আমার হ্যান্ড মাইক যে ধরে আছে তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য। তখন বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে স্টেজ থেকে নেমে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। তবে কীভাবে লঙ্ঘন হচ্ছে কী দিয়ে লঙ্ঘন হচ্ছে বলছেন না। পরে আমি রেগে গিয়ে বলি, আমার প্রতিপক্ষ প্রতিনিয়ত মিটিং করে যাচ্ছে একটার পর একটা, কিন্তু আপনারা কি তা চোখে দেখেন না। 

তিনি বলেন, আমি স্পেসিফিকলি বলি আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেদিন তার প্রোগ্রাম চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলেছে- ‘রুমিন ফারহানাকে টিস্যু বলেছি, আরও বলবো, নর্তকি বলেছি আরও বলবো, প্রশাসন আমাকে কী করবে।’ ওই বিষয়টি রেফারেন্সে টেনে আমি ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবকে বলেছি আপনারা কি দেখেন না ওরা যে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বক্তব্য দিচ্ছে। তারা যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে সেটি আমি অনুকরণ করে দেখাচ্ছিলাম। তারপরে আমি বলি, যে দলের তাঁবেদারি আপনারা করছেন ওই দল গত ১৫ বছর চৌকির তলায় লুকিয়ে ছিল। 

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রশাসন অতিরিক্ত ঝুঁকে গেছে। প্রশাসন নিরপেক্ষ কাজ করছে না। আমি আশা করেছিলাম নিরপেক্ষ কাজ করবে। কিন্তু বিএনপির লোকেরা সমানে স্টেজ বানিয়ে অনুষ্ঠান করছে, এক টাকা জরিমানা করেনি। আমি চিন্তা করছি আমি এটা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবো।  

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা সকল প্রার্থী ও দলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আমরা শুধুমাত্র আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের কাজ সম্পূর্ণরূপে আইন ও বিধিমালা দ্বারা পরিচালিত।

Related Articles

Back to top button