নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্ত্রীকে হুমকি

‘একেবারে খাইয়া লামু’ বলা সেই যুবদল নেতার বাসায় যৌথবাহিনীর অভিযান

অনলাইন ডেস্ক: ‘এই এরিয়াতে ঢুকছেন কেন? এদিকে আর ঢুকবেন না। একেবারে খাইয়া লামু শালারা, যাহ!’— গাড়িতে বসে থাকা এক নারীকে এভাবেই হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আলোচনায় আসা যুবদল নেতা হুমায়ূন কবিরের বাসায় অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে বন্দরের আমিন আবাসিক এলাকায় তার বাসভবন ও বন্দর খেয়াঘাটে রাজনৈতিক অফিসে অভিযান চালানো হয়। এসময় পুলিশের পাশাপাশি যৌথবাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেয়।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদের স্ত্রী ও নির্বাচনী এজেন্ট মোসা. নার্গিস আক্তারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবির এবং যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত সজিব নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে হুমকি দেওয়ার ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এ ঘটনায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে নার্গিস উল্লেখ করেন, গত শুক্রবার সকালে বন্দর খেয়াঘাট এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিলবোর্ড স্থাপন করতে গেলে প্রতিন্দ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবুল কালামের লোকজন বাধা দেয় এবং মারমুখী আচরণ করে। এতে সেখানে বিলবোর্ড স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আমিন আবাসিক এলাকাতেও গণসংযোগকালে একই প্রার্থীর সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন নার্গিস।

তিনি বলেন, ‘আমি পথচারীদের মাঝে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে গণসংযোগ করতে গেলে আমাকে প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় বাধা দিয়ে কর্মসূচি পণ্ড করে দেয় এবং সেখানে আর কোনোদিন গণসংযোগ করতে দিবে বলেও হুমকি দেয়। এ সময় হুমায়ূন কবির নামে এক যুবক হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এই এরিয়াতে ঢুকছেন কেন? এদিকে আর ঢুকবেন না। একেবারে খাইয়া লামু শালারা, যাহ!’

নার্গিস অভিযোগ করে আরও বলেন, হুমায়ূন কবির বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সজীবও যুবদলের কর্মী। তারা দুজনই আবুল কালামের অনুসারী। 

বন্দর থানার ওসি মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এজন্য যা যা করা দরকার বন্দর থানা প্রশাসন তাই করবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে হুমায়ূন কবিরের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। 

Related Articles

Back to top button