ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশে আসছে আজ, জেনে নিন দেখার নিয়মকানুন

অনলাইন ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আবারও বাংলাদেশে আসছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতীক—বিশ্বকাপের আসল ট্রফি। বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাছে ট্রফিটিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিতে চলমান ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর’-এর অংশ হিসেবেই আজ ঢাকায় পা রাখছে সোনালি এই ট্রফি।
এর আগে বাংলাদেশে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি তিন দফা—২০০২, ২০১৩ ও ২০২২ সালে। বিশ্বকাপের আগে নিয়মিত বিশ্বভ্রমণের এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ২০০৬ সালে। সেই সময় থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে ফিফা নির্ধারিত বিভিন্ন দেশে ট্রফি নিয়ে যায় ফুটবলপ্রেমীদের সামনে হাজির হতে।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি ট্যুর শুরু হয়েছে ৩ জানুয়ারি। প্রথম গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। এরপর একাধিক দেশ ঘুরে ভারত হয়ে আজ বাংলাদেশে পৌঁছাচ্ছে ট্রফিটি। পুরো সফর চলবে ১৫০ দিন। এই দীর্ঘ যাত্রার শেষ হবে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে। আগামী ১২ জুন মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী আজতেকা স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুরের মূল উদ্দেশ্য হলো—বিশ্বকাপের আসল ট্রফিটিকে সরাসরি ফুটবলভক্তদের সামনে তুলে ধরা। ফিফা ও বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলার যৌথ আয়োজনে এই ট্যুর শুরু হয়। গত দুই দশকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত ট্রফি ট্যুরে অংশ নিয়ে প্রায় ৪০ লাখ দর্শক কাছ থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
অনেকের প্রশ্ন থাকে—ট্যুরে প্রদর্শিত ট্রফিটি কি আসল? ফিফা জানায়, হ্যাঁ, বিশ্বভ্রমণে যে ট্রফিটি প্রদর্শিত হয় সেটিই আসল বিশ্বকাপ ট্রফি। নিখাদ সোনায় তৈরি এই ট্রফির ওজন ৬ কেজি ১৭৫ গ্রাম। তবে ট্রফিটি সব সময় ফিফার কঠোর তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। বিশ্বকাপজয়ী দলকে উদ্যাপনের সময় ট্রফিটি দেওয়া হলেও পরে স্থায়ীভাবে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সোনার প্রলেপ দেওয়া একটি রেপ্লিকা।
বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ট্রফিটি বিশ্বভ্রমণে বের হয়েছে। ফিফার মনোনীত সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল তারকারা ট্রফির সঙ্গী হন বিভিন্ন দেশে। ২০২২ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় ট্রফির সঙ্গে ছিলেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার ক্রিস্টিয়ান কারেম্বু। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুরের শুরুতে সৌদি আরবে উপস্থিত ছিলেন ইতালির ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো। বাংলাদেশ সফরে ট্রফির সঙ্গে থাকছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা।
বিশ্বকাপ ট্রফি স্পর্শ করার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কেবল বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং ফিফা সভাপতিই এই ট্রফি ছোঁয়ার অনুমতি পান।
এবারের ট্রফি ট্যুরে বাংলাদেশসহ মোট ৩০টি দেশের ৭৫টি স্থানে ট্রফি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশে শুধু ঢাকার র্যাডিসন ব্লু হোটেলেই ট্রফিটি প্রদর্শিত হবে। ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার পর ট্রফিটি যাবে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এরপর জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরিকোস্ট, মরক্কো, পর্তুগাল, স্পেন, আলজেরিয়া, ফ্রান্সসহ ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ঘুরে সফর শেষ হবে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়।
সাধারণ দর্শকদের জন্য ট্রফি দেখার সুযোগ রাখা হলেও সেটি সীমিত পরিসরে। কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ প্রোমো ক্যাম্পেইনের নির্বাচিত বিজয়ীরাই ট্রফি দেখার ও ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। আজ সকাল ১০টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। এরপর বেলা দেড়টার পর ঢাকার র্যাডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে ট্রফিটি, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে থাকবে।
ট্রফি প্রদর্শনীতে অংশ নিতে দর্শকদের জন্য কিছু নিয়মও নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈধ টিকিটের কপি দেখানো বাধ্যতামূলক। ট্রফি স্পর্শ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্ধারিত মাপের বাইরে ব্যাকপ্যাক বহন, ধূমপান, টিকিট হস্তান্তর কিংবা ধারালো ও নিষিদ্ধ সামগ্রী নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। একই সঙ্গে কোনো দেশ বা ফুটবল দলের পতাকা ভেন্যুতে নেওয়ার অনুমতিও নেই।




