উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি দলের নাম ও প্রতীক আগে দেওয়া হয়েছে: নজরুল ইসলাম খান

অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক আগে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) মনে হয় বিষয়টি খেয়াল করেনি।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সাথে বিএনপি প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বর্ণমালা অনুসারে ব্যালট সাজানো হয়নি। বিশেষ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম আগে চলে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে হয় ইচ্ছে করেই এমনটাই করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, যেন এই পোস্টাল ব্যালটের মতো দেশের ব্যালটেও একইভাবে প্রতীক ব্যবহার করা না হয়।
তিনি আরও বলেন, বাহরাইনে একটি বিশেষ দল অনেকগুলো ব্যালট পেপারের বিষয়টি সামলাচ্ছে। ইসি বলেছে, ‘তারা বাহরাইনের রাষ্ট্রদূতের সাথে এ নিয়ে আলাপ করেছে’। এমনকি ভোটে কারচুপির চেষ্টা হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করা হবে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমরা বলবো যারা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একটি বিশেষ দল ভুয়া ভোটার তৈরির চেষ্টায় আছে বলেও অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম খান।
বৈঠকে কিছু প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সমস্যা অন্যতম আলোচনায় ছিল উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, কোনো প্রার্থী নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তিনি নির্বাচনের যোগ্য হবে। অথচ কিছু রিটার্নিং অফিসার তাদের প্রার্থিতা অবৈধ করেছেন। এমনকি প্রার্থিতা বাতিলও হচ্ছে। কিন্তু আইন সবার জন্য সমান করা উচিত। জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজনের একই কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বিএনপি মনে করে তাদেরও রিভিউ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানান যেন এই বিষয়ে আর জটিলতা সৃষ্টি করা না হয়।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যথাসময়ে নির্বাচনের জন্য ইসির অনুরোধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করেছেন। অথচ পরিষ্কার বলা হয়েছিল, এটি কোনো রাজনৈতিক সফর হবে না। বিএনপি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ঠিক রাখতে চেষ্টা করেছে। কিছু রাজনৈতিক দল ক্রমাগত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে ইসির ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিএনপি প্রার্থীদের কারণ দর্শাতে বলা হয়। অথচ ঢাকাসহ বেশকিছু বড় এলাকায় অন্য দল আচরণবিধি ভঙ্গ করলেও ইসি সেটা খেয়াল করছে না।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই নেতা আরও বলেন, এসপি নিয়োগ/বদলি হয়েছে লটারির মাধ্যমে। সেখানে বিএনপির কোনো হাত ছিল না। কিন্তু এসব নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলে, তা হবে রাজনৈতিক কৌশল। জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট অনেক দলই দিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াই বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত।




