ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র পর্যালোচনায় ২ দিন সময় নিলেন বাদী

অনলাইন ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিনের সময় নিয়েছে বাদীপক্ষ। আদালত সময় মঞ্জুর করে অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য ১৫ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন।
ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালতে সোমবার মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য তিনি দুই দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন। বাদীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
এদিন হাদির ভাই ওমর হাদিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, ‘অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য আমরা দুই দিন সময় নিয়েছি। ১৫ জানুয়ারি আপত্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
হাদিকে গুলি করা হয় গত ১২ ডিসেম্বর, যখন তিনি গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় যাচ্ছিলেন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসা দুষ্কৃতিকারীরা গুলি করে। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে অস্ত্রোপচার করা হয়, পরে রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। দু’দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।
হাদির হত্যার পর, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব থানা পুলিশের পরিবর্তে ডিবি পুলিশের হাতে দেওয়া হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ গত ৬ জানুয়ারি মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭), হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধার বিষয়ে গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। এদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক।
অভিযোগপত্রে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে আসামি ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।




