প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ব্যাটারি কারখানা, বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক: নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একেবারে সীমানা ঘেঁষে ব্যাটারি নির্মাণ কারখানা গড়ে ওঠায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। পুরাতন ব্যাটারি পোড়ানোর ফলে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিদ্যালয়ের পরিবেশসহ আশপাশের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যাটারি নির্মাণ কারখানা। ওই কারখানায় পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে ও পুড়িয়ে সীসা সংগ্রহ করা হয়, যার ফলে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আশপাশের বাসিন্দারা।
উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের পুরান্দিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ১০০ নম্বর পুরান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ঠিক পাশেই রয়েছে এশিয়া কার বিডি লিমিটেড নামের ব্যাটারি কারখানাটি। এখানে নিয়মিত পুরাতন ব্যাটারি পোড়ানোর ফলে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের পরিবেশে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানাটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। বিদ্যালয় ছাড়াও আশপাশে রয়েছে হাজারো মানুষের বসবাস। অথচ এমন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে ব্যাটারি পোড়ানোয় মারাত্মক বায়ুদূষণ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অলিউল্লাহ বলেন, “পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে এখানে নতুন ব্যাটারি তৈরি করা হয়। এতে যে বিষাক্ত ধোঁয়া বের হয়, তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধে পরিবেশ ও জনজীবন বিষিয়ে উঠেছে। এতে আমাদের শিশুদের স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সজিব মিয়া জানান, “প্রায়ই বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিদ্যালয় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে। অনেক শিশু ঠিকভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারে না। ইতোমধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছে, কারও কারও চোখে সমস্যাও দেখা দিয়েছে।”
শিক্ষার্থীরাও জানায়, বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে তাদের চোখ জ্বালাপোড়া করে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
এ বিষয়ে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোসতানশির বিল্লাহ বলেন, “ধোঁয়া কালো হোক বা সাদা—সব ধরনের ধোঁয়াই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অনেক বেশি। দীর্ঘদিন এমন ধোঁয়ার মধ্যে থাকলে শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।”
পুরান্দিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, “ব্যাটারি পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় আমরা অতিষ্ঠ। আশপাশের দোকান ও ঘরের টিনের চালায় মরিচা ধরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”
কারখানার বিষয়ে জানতে গেলে এশিয়া কার বিডি লিমিটেড–এ প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে মোবাইলে রনি নামের এক কর্মকর্তা জানান, ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাদিরা আফরোজ বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা মানববন্ধনও করেছে, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বদরুল হুদা জানান, “আমি নতুন যোগদান করেছি। কারখানার ধোঁয়ার বিষয়ে অবগত হয়েছি। সেখানে একাধিক কারখানা রয়েছে বলে শুনেছি। কোনটি দূষণের জন্য দায়ী এবং কারখানাগুলোর অনুমোদন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে লোক পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




