কুড়িগ্রাম-৩ আসন

দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য বাতিল হলো জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে (উলিপুর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।
গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথ তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপরই প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের ভিতর ও বাইরে বিক্ষোভ করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করার প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছেন নেতাকর্মীরা।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেন রিটার্নিং অফিসার। দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের উপযুক্ত প্রমাণ জমা দেওয়ার জন্য তাকে রোববার (৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত সময় দেন রিটার্নিং অফিসার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার আবেদন করলেও সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তের প্রমাণপত্র জমা দেননি। দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় তার মনোনয়নপত্র প্রথমে স্থগিত এবং পরে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথ সিদ্ধান্ত ঘোষণাকালে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২ (গ) দফা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না। প্রার্থী মাহবুবুল আলম তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন ও পেমেন্টের ই-মেইল কপি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা যুক্তরাজ্যের অ্যাম্বাসি থেকে তার নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো প্রমাণপত্র পাইনি। আমরা ওই প্রার্থীকে সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তার দাখিলকৃত কাগজের সঠিকত্ব পাইনি। এজন্য তার মনোনয়নপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করছি।
রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই সম্মেলন কক্ষে ও কার্যালয় চত্বরে অপেক্ষমাণ জামায়াত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। পরে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, আমাকে আজ ডাকা হলেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। রিটার্নিং অফিসার তার আগের বক্তব্যে অনড় ছিলেন। আমি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকলেও তা দেখানোর সুযোগ দেননি। তার দাবি, উনি (রিটার্নিং কর্মকর্তা) চাপে পড়ে বা কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, উনি যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন সেখানে অসংগতি থাকায় তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আপিল করার সুযোগ রয়েছে, উনি চাইলে আপিল করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামের ৪টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৩০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আর কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) হিসেবে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। বাকি ২৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।




