পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে জাপানকে সতর্ক করলো চীন

অনলাইন ডেস্ক: জাপানের পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশটির নেতৃত্বের বক্তব্যগুলোকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি’ বলে মনে করছে চীন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক ব্রিফিংয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘এটি যুদ্ধোত্তর বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘চীন হতবাক- যেভাবে জাপানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে বলছেন যে, জাপানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত।’

জিয়ান উল্লেখ করেন, জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক ‘অ-পারমাণবিক নীতি পর্যালোচনা করার এবং সমস্ত বিকল্প টেবিলে রাখার পরিকল্পনা টোকিওর আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।’

তিনি বলেন, ‘এই বছর নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী- এই ধরনের আলোচনা জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলোর দেশের পুনর্সামরিকীকরণ বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল পর্যালোচনা করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। বেইজিং বিশ্বাস করে যে, কাল্পনিক হুমকির কথা বলে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অ-বিস্তার ব্যবস্থাকে দুর্বল করা জাপানের পক্ষে অগ্রহণযোগ্য।’

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি সম্প্রতি এক সংসদীয় বিতর্কে বলেছিলেন, তাইওয়ানের কাছে একটি সম্ভাব্য সামরিক সংকট তার দেশের জন্য ‘একটি অস্তিত্বগত হুমকি’ তৈরি করবে। এই পরিস্তিতিতে জাপান ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকার’ প্রয়োগ করতে বাধ্য হতে পারে।

তার এই মন্তব্য নিয়ে বেইজিং তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং টোকিওকে একটি গুরুতর সতর্কীকরণ জারি করে। ওসাকার চীনা কনসাল জেনারেল জুয়ে জিয়ান একটি এক্স পোস্টে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর ‘মাথা কেটে ফেলার’ হুমকি দেন। তবে কিন্তু পোস্টটি পরে মুছে ফেলা হয়। এরপর চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির নাগরিকদের জাপান ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে।

১৯৪৯ সাল থেকে তাইওয়ান স্থানীয় প্রশাসনের অধীনে শাসিত হয়ে আসছে। চিয়াং কাই-শেকের নেতৃত্বে অবশিষ্ট কুওমিনতাং বাহিনী চীনের গৃহযুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর দ্বীপটিতে পালিয়ে যায়। বেইজিং এই দ্বীপটিকে তার একটি প্রদেশ বলে মনে করে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই এই অবস্থানে রয়েছে।

Related Articles

Back to top button