শেরপুরে তিনটি সংসদীয় আসন

দুটিতে দ্বিমুখী ও একটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, শেরপুরে উত্তেজনা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন থেকেই জেলার শহর, বন্দর, গ্রামীণ হাট-বাজার ও জনবহুল এলাকায় শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। মিছিল-মিটিং, জনসভা, পথসভা, উঠান বৈঠক, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা ও জনসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনি এলাকা। মাইকিংয়ের উচ্চকিত শব্দে শহরবাসীর কান ঝালাপালা। প্রচার-প্রচারণার কাজে প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের গলদঘর্ম অবস্থা। ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা কম নেই। কার প্রার্থী কত যোগ্য তা নিয়ে বিতর্ক ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনি সংঘর্ষে এক জন নিহত হয়েছেন। এ অবস্থায় জামায়াত বিএনপির কেউই স্বস্তিতে নেই। ভোটাররা বলছেন, শেরপুরের তিনটি আসনেই হাড্ডাহাডি লড়াই হবে।

জেলা সদরসহ ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত শেরপুর-১ আসনে প্রার্থী সংখ্যা ৬। তারা হলেন-বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন (ধানের শীষ), জামায়াতের মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (দাঁড়িপাল্লা), এনসিপির মো. লিখন মিয়া (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল হক মনি (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় পার্টির সাবেক জেলা সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস উদ্দিন (কাপ-পিরিচ) এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (মোটরসাইকেল)। নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পর স্থানীয় ভোটাররা মনে করেছিল ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই ভোটযুদ্ধ সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে কাপ-পিরিচ প্রতীকধারী ইলিয়াস উদ্দিন বর্তমানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে সমর্থন দিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এমনটি হলে এ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।

শেরপুর-২ আসনে এবার চার জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে সাবেক হুইপ মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ফহিম চৌধুরী বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে ভোটের ময়দানে লড়বেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী অন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েস (হাতপাখা) এবং এবি পার্টির মো. আব্দুল্লাহ (ঈগল) নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। ঐ আসনের ভোটারদের অভিমত, অন্য প্রার্থী থাকলেও এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে নকলা উপজেলায় হাতপাখার যথেষ্ট কদর রয়েছে।

শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসন গঠিত। এ আসনে প্রার্থী সংখ্যা পাঁচ জন। বিএনপি প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ নূরুজ্জামান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন (হাতপাখা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কস বাদী)-এর প্রার্থী মিজানুর রহমান (কাঁচি) এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে ঝিনাইগাতীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন। ভোটাররা বলছেন, শোনা যাচ্ছে বিএনপির স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে যাবেন। এমনটা হলে এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে।

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর জয়ী হওয়াটা সহজ ছিল। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা উজ্জীবিত হয়ে উঠে ছিলেন। কিন্তু শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে চিত্র পালটে গেছে। এর পরও পাহাড়ি নৃ-জাতি গোষ্ঠীর ওপর ভোটের ফলাফল নির্ভর করছে।

Related Articles

Back to top button