মির্জাপুরে তীব্র গ্যাস সংকট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না সিএনজি

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। যানবাহন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে গ্যাসের সংকটে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় মা সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের চাপ না থাকায় স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে অনেক চালক ও শ্রমিককে সড়কের পাশে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। উত্তরাঞ্চলের ২২টি জেলা ছাড়াও টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলার বিভিন্ন রুটের হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে। যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশে ১৫টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে হঠাৎ করেই এসব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। সিএনজি স্টেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও গোড়াই শিল্পাঞ্চলেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক বাসাবাড়িতে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ দোকান থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। আবার অনেক পরিবার লাকড়ি দিয়ে রান্নার কাজ সারছেন।
অন্যদিকে, গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে এসব কারখানায় উৎপাদন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন মালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদেরও দুর্ভোগ বাড়ছে।
শনিবার মহাসড়কের মা সিএনজি ফিলিং স্টেশন, শিলা বৃষ্টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন, নাটিয়াপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও বাঐখোলা হাই প্রেসার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পাম্পে গ্যাসের চাপ না থাকায় শত শত যানবাহন গ্যাসের জন্য সড়কের পাশে অপেক্ষা করছে। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
এ বিষয়ে তিনটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক চন্দন সরকার, আবু সাইম ও সাহাদত হোসেন বলেন, গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে গ্যাসের চাপ নেই। যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে সামান্য গ্যাস পাওয়া গেলেও একটি যানবাহনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বেশি গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না।
গ্যাস সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে পরিবহন, আবাসিক ও শিল্প—তিন খাতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




