দলীয় কর্মীদের পেট ভরার রাজনীতি করি না: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা জাতির সমস্ত মানুষের মুক্তির চিন্তা করি। আমরা নিজেরা খাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। দলীয় কর্মীদের পেট ভরার জন্যও রাজনীতি করি না। 

গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

কুষ্টিয়ার সন্তান আবরার ফাহাদকে নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সে নিজেই বিদ্রোহী ও একটা বিপ্লবের নাম। সে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিল। এটাই তার অপরাধ। এ জন্য তাকে দুনিয়া থেকে অত্যন্ত নির্মমভাবে বিদায় করা হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে, যেখানে মেধাবীদের মিলনমেলা।

কারও নাম উল্লেখ না করে শফিকুর রহমান বলেন, এরা যা আচারণ করেছে, তা কোনো মানুষ করে না। এটা সাধারণ পশুও করে না। তারা হচ্ছে চার পায়া জন্তুর মতো। এরা ওই জন্তুগুলোর চেয়ে আরও খারাপ, আরও নিকৃষ্ট। বাংলাদেশের প্রত্যেক যুবক-যুবতী যেন একেকজন আবরার ফাহাদ হয়ে যায়। 

গণ–অভ্যুত্থানের সব যোদ্ধা ও শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, এক আবরারকে বিদায় করেছে, এক আবু সাঈদকে বিদায় করেছে, কিন্তু মনে রাখবা, একেকটা বিপ্লবী হাজার নয়, লক্ষ নয়, কোটি বিপ্লবী দুনিয়ায় জন্ম দিয়ে তারা বিদায় নিয়েছে। ওই মায়েদের পক্ষে কথা বলতে দাঁড়িয়েছি, যে মা তার সন্তান হারিয়েছে। এই মায়েদের দুয়ারে আমি হাজির হয়েছি। মায়েদের চোখেমুখে আমি পানি দেখিনি; তাদের চোখের কোনায় রক্ত দেখেছি।

বিগত সময়ের গুম সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, অসংখ্য মায়ের বুক থেকে, বোনের বুক থেকে তাদের আপনজনকে তুলে নিয়ে বছরের পর বছর আয়নাঘরে রাখা হয়েছে, গুম করে রাখা হয়েছে। বেশির ভাগই আমরা ফেরত পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। হয় জীবিত অথবা লাশ হিসেবে। কিছু এখনো পাইনি। তাদের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন আছে। এ রকম আরও আটজন আছে, যাদের আজও খুঁজে পাইনি।

কুষ্টিয়া থেকে যেসব ট্রাক চাল নিয়ে যায়, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় হয় বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, এতে চালকলের মালিক ও ট্রাকমালিকেরা অতিষ্ঠ। পণ্যের দাম কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তিনটা কাজ করব—যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি করব, সিন্ডিকেট ভেঙে একদম চুরমার করে দেব এবং চাঁদাবাজিতে যারা লিপ্ত, তাদের আমাদের বুকে টেনে নিয়ে ভালো কাজে লাগিয়ে দেব।

মায়েদের পরম যত্নের সঙ্গে দুটি জিনিস নিশ্চিত করবেন জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, এক. তাদের মর্যাদা। দুই. তাদের নিরাপত্তা। বড় শহরগুলোয় তাদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস করব।’

বক্তব্যে শেষে জামায়াতের আমির কুষ্টিয়ার চারটি আসনের দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

Related Articles

Back to top button