হরমুজে ২০ শতাংশ শুল্ক আদায়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

অনলাই্ন ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র একদিন পরই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দীর্ঘায়িত ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখনো কার্যকর কোনো কৌশল খুঁজে পাচ্ছে না ওয়াশিংটন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজ এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জাহাজকেও ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। তার ভাষ্য ছিল, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যয় করছে, তা পূরণ করতেই এ অর্থ নেওয়া হবে।
তবে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তিনি ওই প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাহার করে জানান, এর পরিবর্তে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধের মধ্যে এই অবস্থান পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রায় এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পথ তৈরি করলেও নতুন করে মার্কিন নৌ অবরোধ এবং সামরিক হামলার ঘোষণার পর সেটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে কিছু সাফল্য অর্জন করলেও রাজনৈতিকভাবে সংকটের সমাধান করতে পারেনি। ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হলেও দেশটি এখনো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। ফলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিডের মতে, এই সংঘাত এখন ক্ষয়যুদ্ধের রূপ নিয়েছে এবং এমন যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলার প্রবণতা থাকে।
অন্যদিকে, কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো এলিয়ট আব্রামস বলেন, এখন মূল প্রশ্ন হলো—কার ধৈর্য বেশি, তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত ইরানের, নাকি পারস্য উপসাগরের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংঘাত আবারও তীব্র হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে ট্রাম্পের নৌ অবরোধের ঘোষণার পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব এসব মৌলিক ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকায় দ্রুত কোনো স্থায়ী সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সূত্র: বিবিসি




