কেন ভাঙল রানি-ঐশ্বরিয়ার একসময়ের গভীর বন্ধুত্ব?

অনলাইন ডেস্ক: একসময় বলিউডের জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রী রানি মুখার্জি ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের মধ্যে ছিল দারুণ বন্ধুত্ব। শুধু সহকর্মীই নন, ব্যক্তিগতভাবেও তাদের সম্পর্ক ছিল বেশ আন্তরিক।

পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া নিজেই সেই বন্ধুত্বের নানা স্মৃতি তুলে ধরেছিলেন। পরে এক অনুষ্ঠানে রানিও প্রকাশ্যে ঐশ্বরিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। আমরা চিরকাল বন্ধু হয়েই থাকব।’

ঐশ্বরিয়া জানান, একটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট ট্যুরে প্রায় ৪৫ দিন একসঙ্গে কাটানোর সময়ই তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়।ওই সফরে তারা একসঙ্গে বিভিন্ন দেশে পারফর্ম করেন, ভ্রমণ করেন এবং একই টিমের সঙ্গে সময় কাটান। শুধু তাই নয়, তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই সফরে ছিলেন, ফলে কাজের বাইরেও একে অপরকে কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘রানি খুব আন্তরিক, খুব বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহজ-সরল একজন মানুষ। আমাদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো জড়তা বা জটিলতা ছিল না।ওয়ার্ল্ড ট্যুরে একসঙ্গে কাটানো ৪৫ দিন আমাদের বন্ধুত্বকে আরো দৃঢ় করে। সেই সময় থেকেই আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।’

তিনি আরো বলেন, একই ইন্ডাস্ট্রির দুই অভিনেত্রীর মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব হতে পারে না—এমন ধারণা সঠিক নয়। বাস্তবে তাদের সম্পর্ক ছিল একেবারেই স্বাভাবিক এবং আন্তরিক।

অন্যদিকে, এক অনুষ্ঠানে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে যেতে পারেননি রানি মুখার্জি।তবে অনুষ্ঠানের জন্য একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে তিনি বলেন, ‘তুমি তো জানো আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি। শরীর খারাপ থাকায় আসতে পারিনি, এজন্য খুব খারাপ লাগছে। তবে শুধু এটুকু জানাতে চাই যে আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং আমার জীবনে তোমার গুরুত্ব অনেক। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি, ঐশ্বরিয়া। আমার মনে হয় না এটা আলাদা করে বলার প্রয়োজন আছে; কিন্তু সবার সামনে আমাকে এটা আবারও টিভিতে বলতে হচ্ছে। শুধু একটা কথাই বলতে চাই—আমরা চিরকাল বন্ধু হয়েই থাকব।’

তবে এই বন্ধুত্ব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বলিউডে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ‘চলতে চলতে’ সিনেমায় প্রথমে শাহরুখ খানের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে ঐশ্বরিয়া রাইকে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে বাদ দিয়ে রানী মুখার্জিকে কাস্ট করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই দুই অভিনেত্রীর সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সময়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগও কমে যায়। একসময় যে বন্ধুত্বকে বলিউডের অন্যতম আন্তরিক সম্পর্ক হিসেবে দেখা হতো, সেটিই পরে ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কের টানাপোড়েনের একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে। যদিও এ বিষয়ে দুই অভিনেত্রীই প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করেননি, তবুও তাদের পুরোনো সাক্ষাৎকার ও ভিডিও বার্তা আজও তাদের একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

Related Articles

Back to top button