বিস্ফোরকের অভাবে মধ্যপাড়ায় পাথর উত্তোলন বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক: দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনি কর্তৃপক্ষ ভূগর্ভে পাথর ফাটানোর কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ না করায় গত এক মাস থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে খনিটিতে। বিস্ফোরক সরবরাহ না পাওয়ায় গত ১৯ মে সকাল থেকে পাথর উত্তোলন কাজ থেকে হাত- পা গুটিয়ে বসে রয়েছে খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। তবে অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চালু রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

বিস্ফোরক সংকটের জন্য গত ১৯ মে সকাল থেকে খনির পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) কর্তৃপক্ষ বন্ধের ১৫ দিনের মধ্যে বিস্ফোরক সরবরাহের আশ্বাস দিলেও সেটি কর্তৃপক্ষ করতে পারেননি। এ কারণে গত এক মাস থেকে খনির ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে খনি কর্তৃপক্ষ বলছেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট পেতে সময় লাগছে।

জানা যায়, খনির ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট প্রয়োজন অনুসারে ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করবে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) কর্তৃপক্ষ। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ সময় মতো বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহ না করায় শুধু বিস্ফোরক দ্রব্যের সংকটের কারণে ২০২২ ও ২০২৫ সালে খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এছাড়াও একই কারণে ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে ৭ দিন পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২৫ মে মধ্যপাড়া পাথরখনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। প্রথম দফায় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খনির পাথর উত্তোলন-উৎপাদনসহ রক্ষণাবেক্ষণের কাজে জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোডিয়ামের (জিটিসি) সঙ্গে খনি কর্তৃপক্ষের ছয় বছরের চুক্তি করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারিপ্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে ৬ বছরের পুনঃ চুক্তি করে মধ্যপাড়া পাথরখনি কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী, খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি। প্রতিষ্ঠানটিতে তিন শিফটে পাথর উত্তোলনের কাজ করেন প্রায় ৮০০ শ্রমিক।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, যেহেতু বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি এক্সক্লুসিভ পণ্য, তাই এটি পানিপথে আনতে হয়। বৈশ্বিক সংকটের কারণে শিপমেন্ট জাহাজ পেতে দেরি হয়েছে, সে কারণে পরিবহন করতেও সময় লাগছে। শিপ সিংগাপুরের পথে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে সেটি চিটাগাং পোর্টে এসে পৌছে যাবে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে খনির উত্তোলন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরো বলেন, ৩০০ মেট্রিক টন বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এর চাহিদা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম পর্যায়ে ৮৮ মেট্রিক টন আসছে। সেটি দিয়ে আগামী দুই থেকে আড়াই মাস কাজ চলবে। পরবর্তীকালে অবশিষ্ট আসবে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এই বিস্ফোরক দ্রব্যটি বেশিদিন মজুত রাখা যায় না। খনির পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণসহ পাথর বিক্রি কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলছে।

Related Articles

Back to top button