বড় ধাক্কা শেয়ারবাজারে, লেনদেন নামল হাজার কোটির নিচে

- ডিএসইএক্স কমেছে ৮৫ পয়েন্ট, ৩১৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরপতন
- দরপতনের কারণ নেই, বিনিয়োগকারীদের ভালো কোম্পানি চিনতে হবে: আবু আহমেদ
অনলাইন ডেস্ক: দেশের শেয়ার বাজারে গতকাল সোমবার বড় দরপতন হয়েছে। এক দিনেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ৮৫ য়েন্ট। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই দিনই সূচক কমল। গতকাল সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমে হাজার কোটি টাকার নিচে নেমেছে। ফলে টানা ১৪ কার্যদিবস পর ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার নিচে লেনদেন হলো।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ভালো-মন্দ সব ধরনের শেয়ারের ঢালাও দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। যে কারণে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। সরকারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বাজারে বড় দরপতনের কোনো কারণ নেই। সম্প্রতি ডিএসই ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির একটা তালিকা করেছে—এর একটা প্রভাব পড়তে পারে। যদিও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কিছু নেই। আবু আহমেদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের ভালো কোম্পানি চিনতে হবে। জেনেবুঝে বিনিয়োগ করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেয়ার বাজার বড় করতে হলে নতুন ভালো কোম্পানি আনতে হবে, বন্ড ছাড়তে হবে। সরকারও এ ব্যাপারে আন্তরিক। তারা কাজ করছে। গতকাল বাজারের বড় পতন প্রসঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, এটা স্বাভাবিক দরপতন। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাজার ঊর্ধ্বমুখী। এ সময় অনেক কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। অনেকে মুনাফা তুলে নিয়েছে। তাই এ দরপতন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। এতে সূচকেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। তবে লেনদেন শুরুর ১০ মিনিট পার হওয়ার আগেই পরিস্থিতি বদলে যায়। একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। ফলে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দরপতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে লেনদেনের শেষ দেড় ঘণ্টায় বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা দেয়। এতে দিনের লেনদেন শেষ হয় সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতনের মধ্য দিয়ে।
দিন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে মাত্র ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও দরপতন ছিল ব্যাপক। ‘এ’ শ্রেণির ১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৭১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটির। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির মধ্যে চারটির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুইটির। লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির।
বড় দরপতনের ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে ও বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাত্ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত ২ জুনের পর প্রথম বারের মতো ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে নেমেছে। দেশের প্রধান এই শেয়ার বাজারে গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটির ৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট এলায়েন্স পোর্টের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকার। ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ফিড মিলস।
এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরো রয়েছে, বিডি থাই অ্যালুমেনিয়াম, রবি, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, এনসিসি ব্যাংক এবং অ্যাপেক্স স্পিনিং।
অপরবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বড় দরপতন হয়েছে। বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৬৭ পয়েন্ট। তবে গতকাল সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।




