শিরিন ছুঁয়ে ফেললেন বিউটিকে

অনলাইন ডেস্ক: দেশের একসময়ের সেরা অ্যাথলেট নাজমুন নাহার বিউটি, ১৭ বার ১০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণপদক জয় করেছিলেন। সেই বিউটি কাল দেখলেন তারই নামের পাশে এসে বসলেন আরেক অ্যাথলেট শিরিন আক্তার। তিনিও ১৭ বার ১০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণপদক জয় করলেন। গতকাল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া জাতীয় অ্যাথলেটিকসের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ইভেন্টে শিরিন ছুঁয়ে ফেললেন বিউটিকে।
এখন বিউটি-শিরিন সমান সমান। নিজের চোখেই দেখলেন বিউটি, বিচারকের আসনে ছিলেন তিনি। অভিনন্দন জানিয়েছেন শিরিনকে। শিরিন বললেন, ‘আমি এবার নিয়ে ১৭ বার ১০০ মিটার জয় করলাম।’ বিউটিও দাবি করলেন তিনি ১০০ মিটারে ১৭ বার স্বর্ণ জিতেছেন।

শিরিন গত মৌসুমে হেরেছিলেন সুমাইয়া দেওয়ানের কাছে। এবার শিরিন নিজের স্থান ফিরে পেলেন। দারুণ খুশি। এ বছরই সংসার জীবন শুরু করেছেন শিরিন। ৬ বছর প্রেম করে বিয়ে করেছেন গত বছর সেপ্টেম্বরে। বিয়ের পর প্রথম স্বর্ণপদক জয়, হারানো সিংহাসন ফিরে পাওয়া। ‘ওহ আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম বিয়ের প্রথম ১০০ মিটার স্প্রিন্টে এটা আমার প্রথম স্বর্ণ। আসলেই ভালো লাগছে।’
পাবনার ছেলে সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় নাইমুর রহমানকে বিয়ে করেছেন। গতকাল মুকুট ফিরে পাওয়ার দিনে শিরিন আক্তার ১২.১০ সেকেন্ড সময় নিয়েছেন। ১০.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেনাবাহিনীর শরিফা খাতুন রৌপ্য জয় করেছেন। গত বছর স্বর্ণ পাওয়া সুমাইয়া এবার চতুর্থ হলেন।
গত বছর আগস্টে জাতীয় অ্যাথলেটিকসে শিরিন ১০০ মিটার ইভেন্টে হেরে তিনি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। সে কারণে গতকাল নিজ থেকে দুঃখ প্রকাশ করলেন। এতদূর আসার পেছনে নৌবাহিনীর শিরিন আক্তার তার কোচ আরেক সাবেক জাতীয় অ্যাথলেট আব্দুল্লাহ হেল কাফির কথা বলেছেন। সাফল্যের পেছনের কারিগর।

ইমরানুর রহমান ষষ্ঠ বারের মতো ১০০ মিটার স্প্রিন্ট জয় করলেন। গতকাল ১০০ মিটার পুরুষ ইভেন্টে স্বর্ণ জয় করেছেন লন্ডন প্রবাসী ইমরানুর রহমান। তিনি সময় নিয়েছেন ১০.৫৮ সেকেন্ড। গত বছর ইমরানুরের সময় টাইমিং ছিল ১০.৬৮ সেকেন্ড। এবার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ইনজুরি কাটিয়ে আবার ট্র্যাকে ফিরলেন ইমরানুর। ১০০ মিটার স্প্রিন্টের খেতাব নিজের কাছেই রাখলেন। অন্য কেউ হারাতে পারেনি তাকে। একই দলের ইসমাইল ১০.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। বিমান বাহিনীর নাইম ইসলাম ১০.৯১ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন।
ইমরানুর রহমান লন্ডনে বসবাস করেন। তিনি ওখানে থেকেই অনুশীলন করেন। যখন খেলা হয় তখন ঢাকায় আসেন কিংবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলা থাকলে সেখানে চলে যান। এবার সরকার হতে ১ লাখ টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়া হলেও তার নাম নেই সেখানে। এটা নিয়ে ইমরানুর মন খারাপ করেছেন। ১০ জনের নাম অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন হতে পাঠিয়েছিল ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। সেখানে নাম ছিল না ইমরানুরের। গতকাল ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসের উদ্বোধন করতে এসে এটা নিয়ে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানিয়েছেন, ফেডারেশন হতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



