এখনও অনুপ্রবেশের রাজনীতির চেষ্টা করছে ছাত্রশিবির: মাহদী আমিন

অনলাইন ডেস্ক: বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নিপীড়ন, গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিকূল সময়েও হেলমেট ও হাতুড়ি বাহিনীর ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় ছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
মাহদী আমিন বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে অসংখ্য শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারেনি, পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের অধিকার হারিয়েছে। এত নির্যাতনের মুখেও তারা নিজ পরিচয়ে রাজনীতি চালিয়ে গেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, গত ১৬ বছর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা অন্য কোনো দল স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেনি। কারণ ছাত্রদলের ত্যাগের যে ইতিহাস রয়েছে, তার ধারেকাছে অন্য কোনো সংগঠনের পৌঁছানো সম্ভব নয়।
পোস্টে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে একক সংগঠন হিসেবে সর্বাধিক ১৪২ জন সদস্য হারিয়েছে ছাত্রদল। আন্দোলনের সূচনালগ্নে ১৬ জুলাই আবু সাঈদের সঙ্গে একই সময়ে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের শাহাদাতবরণের বিষয়টিও তিনি মনে করিয়ে দেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে তিনি সংগঠনটির বর্তমান ও অতীত কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকায় দেশে বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত দুই মাসের সরকারের কর্মকাণ্ডই এর প্রমাণ। এই সময়ে প্রতিটি সংগঠনের উচিত নিজস্ব পরিচয়ে স্বচ্ছ রাজনীতি করা। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ছাত্রশিবির যেভাবে গোপনে ছাত্রলীগের ভেতরে অনুপ্রবেশ করে কার্যক্রম চালিয়েছে এবং এখনো ছদ্মনামে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে, তা সুস্থ রাজনীতির পরিপন্থী।
বার্তার শেষাংশে মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করেন, সকল বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠন সহিংসতার পথ পরিহার করবে। গোপন রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে তারা প্রকাশ্য ও গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।




