জ্বালানিসংকটে বিভিন্ন স্থানে নৌযান চলাচল বন্ধ, দড়ি টেনে চলছে খেয়ানৌকা

অনলাইন ডেস্ক: জ্বালানি তেলসংকটে বিভিন্ন স্থানে অধিকাংশ নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে । অনেক স্থানে দড়ি টেনে চলছে খেয়াঘাটের নৌকা। এতে বিপাকে পড়ছেন নৌপথে চলাচলকারী মানুষ।
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকার জ্বালানি তেল (ডিজেল) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তেলের অভাবে অধিকাংশ নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই জেলার পাঁচটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একবার যাতায়াতে ৩ থেকে ৪ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হলেও তা জোগাড় করতে মাঝিদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ‘নৌকা না চলায় সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না । যে দুই-একটি নৌকা চলছে, তাতে তিলধারণের জায়গা নেই। এতে আমাদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।’ একই চিত্র দেখা গেছে চর আলাতুলী ঘাটে। অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে শহরে যাওয়ার জন্য ভোরে ঘাটে এসেও চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে আম্বিয়া নামের এক নারীকে।
তিনি বলেন, ‘চরের মানুষের জীবন নদীর ওপর নির্ভরশীল। তেলের অভাবে সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা এখন অসহায়।’ রেলবাজার খেয়া ঘাটের নৌকার মাঝি আবু তালেব বলেন, ‘তেল নাই, তাই নৌকা নামাতে পারছি না। লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবার নিয়ে এখন আমাদের না খেয়ে থাকার উপক্রম হয়েছে।’ এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, ‘নৌযানের জ্বালানি (ডিজেল) সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। গোদাগাড়ীর ঘাটে ডিজেল নেই, নৌকা চলাচল বন্ধের পথে অচল পদ্মা-মহানন্দার দুই ইউনিয়ন ছবি।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, করতোয়া নদীতে উল্লাপাড়ার বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া খেয়া ঘাটে জ্বালানি তেল সংকটের কারণে দুই পাড়ে দড়ি বেঁধে হাতে টেনে নৌকা চালাচ্ছেন খেয়াঘাটের মাঝিরা। দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটে শ্যালো ইঞ্জিন লাগিয়ে নৌকা চালানো হতো। কিন্তু ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই খেয়াঘাটে নৌকা চালাতে যে পরিমাণ ডিজেল দরকার, তার অর্ধেকও মিলছে না বলে জানান মাঝিরা।
এই ঘাটের মাঝি আব্দুল লতিফ, শহিদুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন জানান, উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্বাঞ্চলের অন্তত ২০ হাজার মানুষ বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া খেয়াঘাট পার হয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা সদরে যাতায়াত করে থাকে। প্রতিদিন এদেরকে নৌকায় পারাপার হতে হয়। ঘাটের নৌকায় শ্যালো ইঞ্জিন লাগিয়ে নদী পারাপার করেন মাঝিরা। প্রতিদিন নৌকা চালাতে তাদের তেলের প্রয়োজন হয় অন্তত ৩ লিটার । কিন্তু তারা এক লিটার করে তেল পাচ্ছেন। এতে অর্ধেক দিনও নৌকা চালানো সম্ভব হচ্ছে না । ফলে নিরুপায় হয়ে খেয়া নৌকা চালু রাখতে এক সপ্তাহ ধরে তারা নদীর দুই পারে বাঁশের খুঁটি পুঁতে তাতে দড়ি বেঁধে হাতে টেনে নৌকা চালাচ্ছেন ।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন হোসেন ও সাকিব হোসেন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া খেয়াঘাটে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পারাপার হয়ে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে তেল সংকট দেখা দেওয়ায় এই ঘাট মাঝিরা তাদের নৌকার জন্য উপযুক্ত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না । তেলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তারা। এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, ‘বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া ঘাট দিয়ে প্রচুর মানুষ যাতায়াত করে বলে জেনেছেন তিনি আপাতত ঘাট মাঝিদের কষ্ট হচ্ছে। আমরা তাদের কষ্ট লাঘব করতে সাধ্যমত সব ধরনের চেষ্টা করছি।’



