বিশ্বকাপ দলে ঢুকতে নেইমারের গোপন অস্ত্রোপচার

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বকাপে খেলা অনেক ফুটবলারের আজন্ম লালিত স্বপ্ন। তবে ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে দাঁড়ানো নেইমারের কাছে তা অস্তিত্বের লড়াই। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে চুপিসারে বড় এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার।
কার্লো আনচেলত্তির দলে জায়গা পেতে হাঁটুর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে গোপনে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন ব্রাজিল ও সান্তোস ফরোয়ার্ড। এটি ছিল রিজেনারেটিভ সার্জারি। প্লেটলেট রিচ প্লাজমা ব্যবহার করে জয়েন্ট টিস্যুকে শক্তিশালী করার এই চিকিৎসা পদ্ধতি আধুনিক ক্রীড়া চিকিৎসায় বেশ পরিচিত। এর মাধ্যমে দ্রুত ফিট হয়ে ওঠার লক্ষ্য নেইমারের।
৩৪ বছর বয়সি নেইমার গত ব্রাজিলিয়ান লিগ মৌসুমের পর থেকেই হাঁটুর চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এবার তিনি আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে তিনি অপারেশনটি সম্পন্ন করেন । ২৬ ও ৩১ মার্চ ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ডাক না পাওয়ায় এই সময়টিকে কৌশলগতভাবে বেছে নেন তিনি । এতে ক্লাবের সূচিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের আগে গুরুত্বপূর্ণ সময়ও তিনি কাজে লাগাতে পেরেছেন ।
সান্তোসের কোচ কুকা এই অস্ত্রোপচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কোপা সুদামারিকানায় কুয়েঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি জানান, নেইমার আন্তর্জাতিক বিরতির সময় হাঁটুর অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তিনি কয়েক দিন অনুশীলন করতে পারেননি এবং চিকিৎসাজনিত কারণে বিশ্রামে ছিলেন। কুকা আরো বলেন, নির্দিষ্ট একটি ট্রেনিং প্রোগ্রামের কারণে নেইমার এই সপ্তাহে দলের সঙ্গে ভ্রমণ করবেন না । এই প্রোগ্রামে শক্তি, গতি ও সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য দিনে দুটি সেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মোটেও আকস্মিক নয়।
নেইমার খুব ভালোভাবেই জানেন, আনচেলত্তির পরিকল্পনায় তিনি আপাতত পিছিয়ে আছেন । ব্রাজিল কোচ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শতভাগ ফিট না হলে কোনো খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া হবে না। তাই নিজেকে আবারও সেরা অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই এই ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন নেইমার। তবে চ্যালেঞ্জ এখানেই শেষ নয়। চোটের ইতিহাসের পাশাপাশি ম্যাচ ফিটনেসের ঘাটতিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান আশাব্যঞ্জক হলেও ধারাবাহিকতার প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ।




